ত্বকের যত্নে কলার খোসা! সহজেই তৈরি করুন ফেস মাস্ক, পান উজ্জ্বল ত্বক

ফল হিসেবে কলার উপকারিতা তো অনেক, তবে জানেন কি এই ফলের খোসাও ত্বকের যত্নে অসাধারণ কাজ দিতে পারে? চুলের পাশাপাশি ত্বকের পরিচর্যাতেও কলার খোসার ব্যবহার বহুদিনের। সহজেই বাড়িতে কলার খোসা দিয়ে তৈরি করা যায় ফেস মাস্ক ও ফেস প্যাক। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের জেল্লা বজায় থাকে, ত্বক হয় উজ্জ্বল ও মোলায়েম এবং দূর হয় কালচে দাগছোপ।

কীভাবে কলার খোসার সাহায্যে ফেস মাস্ক তৈরি করে ত্বকের যত্ন নেবেন, সেই পদ্ধতি জেনে নিন:

ফেস মাস্ক তৈরির জন্য প্রথমে কলার খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। খেয়াল রাখবেন খোসা থেকে ভালোভাবে আঁশ ছাড়িয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। অপরিষ্কার খোসা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

এরপর একটি পাত্রে কলার খোসার টুকরোর সাথে মধু, টক দই এবং পাকা কলার টুকরো মিশিয়ে নিন। সঠিক পরিমাণে উপকরণ মেশানো জরুরি। এক চামচ মধু, দুই চামচ টক দই এবং ২-৩ টুকরো পাকা কলা ও কলার খোসা মিক্সিতে ভালোভাবে ঘুরিয়ে নিন। যতক্ষণ না সমস্ত উপকরণ একটি মসৃণ মিশ্রণে পরিণত হচ্ছে, ততক্ষণ ব্লেন্ড করতে থাকুন। তৈরি হয়ে গেলে মিশ্রণটি একটি কাঁচের পাত্রে রাখুন।

কলার খোসা ব্যবহার করে তৈরি এই ফেস মাস্ক নিয়মিত ত্বকে লাগালে ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কার হয়। ত্বকের একদম ভেতরের জমে থাকা ময়লাও সহজে বেরিয়ে আসে। এর ফলে ত্বক অনেক বেশি উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত দেখায়।

এই মাস্ক ব্যবহারের আগে মুখ, ঘাড় ও গলার অংশ ভালোভাবে জল দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। এরপর তোয়ালে দিয়ে আলতো করে ত্বক শুকিয়ে নিয়ে মাস্কটি লাগান। অপরিষ্কার ত্বকে কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করা উচিত নয়, এতে সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার এই ফেস মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। মাস্কটি মুখে, ঘাড়ে ও গলায় লাগানোর পর ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর সাধারণ তাপমাত্রার জল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।

তবে, আপনার ত্বক যদি সংবেদনশীল হয় বা ব্রণের সমস্যা থাকে, তাহলে কলার খোসা থেকে তৈরি এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক পরিচর্যা করা জরুরি।