বাঙালি হেঁশেলের মা-ঠাকুমাদের হাতের জাদুতে পোলাও হোক বা মাংসের ঝোল—তেজপাতা ছাড়া সুগন্ধ যেন অসম্পূর্ণ। কিন্তু আপনি কি জানেন, যে তেজপাতাটিকে রান্নার পর আমরা সাধারণত ফেলে দিই, সেটি আসলে পুষ্টিগুণের এক ‘পাওয়ার হাউস’? আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্র বলছে, তেজপাতা কেবল মশলা নয়, এটি শরীরের একাধিক জটিল সমস্যার প্রাকৃতিক সমাধান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেজপাতায় রয়েছে লিনালুল (Linalool) এবং সিনেওল (Cineole)-এর মতো যৌগ, যা শরীরের স্ট্রেস হরমোন কমাতে সাহায্য করে। যারা অনিদ্রা বা দুশ্চিন্তায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য তেজপাতা পোড়ানো ধোঁয়া বা এর চা অত্যন্ত কার্যকরী। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি আশীর্বাদস্বরূপ; কারণ এটি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে তেজপাতার জুড়ি মেলা ভার। এছাড়া এতে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান হজমশক্তি বাড়ায় এবং সর্দি-কাশির প্রকোপ কমায়। সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বা সকালে খালি পেটে তেজপাতা ফোটানো জল যোগ করে দেখুন, পরিবর্তন টের পাবেন নিজেই।