ডেস্কে বসে কাজ করলেই কি হু-হু করে বাড়ছে ওজন? অফিসের মারাত্মক এই গোপন সত্যিটা জানলে চমকে যাবেন!

অফিসে একটানা বসে কাজ করা এবং আধুনিক কর্পোরেট সংস্কৃতির যান্ত্রিক ইঁদুরদৌড় বর্তমান প্রজন্মের শারীরিক সুস্থতার ক্ষেত্রে এক মারাত্মক অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত একটানা ডেস্কে কম্পিউটার বা ল্যাপটপের সামনে বসে কাজ করার ফলে তরুণ-তরুণীদের শরীরে অজান্তেই বাসা বাঁধছে মারাত্মক ওবেসিটি বা স্থূলতা। অথচ কর্মব্যস্ত মানুষ অনেকেই বুঝতে পারেন না যে তাঁদের ওজন বৃদ্ধির আসল কারণটি লুকিয়ে রয়েছে তাঁদের অফিসেই। সকালের ব্যস্ততায় নিয়মমতো খাবার না খাওয়া, দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে কাজ করা এবং কাজের অতিরিক্ত চাপের কারণে শরীর নিজের স্বাভাবিক ক্যালোরি পোড়ানোর ক্ষমতা হারাতে বসেছে। ফলস্বরূপ, অজান্তেই শরীরের বিভিন্ন অংশে মেদ জমতে শুরু করে এবং ফিটনেস তলানিতে গিয়ে ঠেকে।

অফিসে ওজন বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় এবং প্রধান কারণ হলো দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকার অভ্যাস বা সিডেন্ট্রি লাইফস্টাইল। চিকিৎসকদের মতে, একটানা এক থেকে দুই ঘণ্টা চেয়ারে বসে কাজ করলে শরীরের লিপিড মেটাবলিজম বা ফ্যাট ঝরানোর প্রক্রিয়া প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ধীর হয়ে যায়। এর ফলে শরীরে ক্যালোরি জমার পরিমাণ বাড়তে থাকে এবং ক্যালোরি খরচের হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। এর পাশাপাশি অফিস বা ক্যাফেটেরিয়ার সহজলভ্য স্ন্যাক্স, অতিরিক্ত চা-কফি পানের অভ্যাস এবং জাঙ্ক ফুডের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ ওজন বৃদ্ধির গতিকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। অনেকেই কাজের ফাঁকে অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়াজাত খাবার বা কোল্ড ড্রিংকস খেয়ে থাকেন, যা শরীরে প্রচুর পরিমাণে অতিরিক্ত ক্যালোরি ও সুগার সরবরাহ করে।

এই সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি কর্মীর উচিত কাজের মাঝে প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর অন্তত পাঁচ মিনিটের জন্য চেয়ার ছেড়ে উঠে একটু হেঁটে নেওয়া বা হালকা স্ট্রেচিং করা। এছাড়া অফিসে আসার সময়ে সিঁড়ি ব্যবহার করা এবং নিজের টেবিলে সবসময় ফাইবার ও প্রোটিন সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স যেমন রোস্টেড ছোলা, ফল বা বাদাম রাখা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ। দীর্ঘমেয়াদে ফিট এবং কর্মক্ষম থাকতে কর্পোরেট জীবনে এই ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলি গড়ে তোলাই হতে পারে একমাত্র নিখুঁত সমাধান।