ডাল রান্নার আগে ভেজানো কেন জরুরি? জেনে নিন পুষ্টিবিদদের মতামত

বাঙালির রান্নাঘরে ডাল একটি অপরিহার্য পদ। যুগ যুগ ধরে চলে আসা একটি সাধারণ নিয়ম হল, ডালের যেকোনো পদ রান্নার আগে ডাল কিছু সময় ধরে ভিজিয়ে রাখা। তারপর ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে তবেই রান্না করা হয়। মসুর, খেসারি, ছোলার মতো ডাল জাতীয় শস্য রান্নার সুবিধার জন্য অনেকেই সারারাত জলে ভিজিয়ে রাখেন। কিন্তু এর কারণ কি শুধুই তাড়াতাড়ি রান্না করা? নাকি এর অন্য কোনো স্বাস্থ্য উপকারিতাও রয়েছে? আসুন, এই বিষয়ে পুষ্টিবিদদের মতামত জেনে নেওয়া যাক।
পুষ্টিবিদদের মতে, ডালে পলিফেনল এবং ট্যানিন নামক দুটি উপাদান থাকে। ডাল জলে ভিজিয়ে রাখলে এই উপাদানগুলির অনেকটাই জলের সাথে বেরিয়ে যায়। এর ফলে ডালে থাকা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যেমন ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম এবং আয়রন আমাদের শরীরে ভালোভাবে প্রবেশ করতে পারে।
ডাল ভেজানোর সঠিক সময় সম্পর্কে পুষ্টিবিদরা বলছেন, সকালে রান্নার পরিকল্পনা থাকলে আগের রাতে ডাল ভিজিয়ে রাখা সবচেয়ে ভালো। সাধারণভাবে ২ থেকে ৮ ঘণ্টা ডাল ভিজিয়ে রাখলে উপকার পাওয়া যায়। তবে কিছু ডাল রান্না করতে রাতভর ভিজিয়ে রাখার প্রয়োজন হয়, আবার কিছু ডাল না ভিজিয়ে ১৫-৩০ মিনিটের মধ্যেই রান্না করা যেতে পারে। তবে মসুর ডাল রান্না করার আগে অন্তত ২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে তা সহজে হজমযোগ্য হয়।
যারা ডাল খেলে গ্যাসের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য ডাল সবসময় জলে ভিজিয়ে রাখা বিশেষভাবে জরুরি। কারণ বেশিরভাগ ডালেই অলিগোস্যাকারাইডস নামক এক ধরনের জটিল শর্করা থাকে। ডাল ভিজিয়ে রাখলে এই শর্করা কিছুটা দ্রবীভূত হয়ে যায়, ফলে ডাল হজম করা সহজ হয় এবং গ্যাস হওয়ার সম্ভাবনা কমে। ডাল না ভিজিয়ে রান্না করলে পেট ব্যথা, পেট ফুলে যাওয়া এবং গ্যাসের মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, ভেজানো মসুর ডালে শরীরের খনিজ শোষণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। মসুর ডালে ফাইটেজ নামে এক প্রকার এনজাইম থাকে। কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখার পর এই এনজাইম ফাইটিক অ্যাসিডকে ভেঙে সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা খনিজ শোষণে সাহায্য করে।
সুতরাং, শুধু রান্নার সুবিধার জন্যই নয়, বরং হজমক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শরীরে পুষ্টিগুণ ভালোভাবে গ্রহণের জন্য ডাল রান্নার আগে নির্দিষ্ট সময় ধরে ভিজিয়ে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই, ডালের স্বাস্থ্য উপকারিতা পেতে রান্নার এই চিরাচরিত নিয়মটি মেনে চলুন।