ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ১৫ দিনের আয়ুর্বেদিক দাওয়াই! জানুন কী কী করবেন

ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখাটা অত্যন্ত জরুরি। ডায়াবেটিসের কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যাওয়ায় অন্যান্য রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। এর পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর খাবার ত্যাগ করা এবং সঠিক সময়ে ঘুম ও রাতের খাবার গ্রহণ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

সম্প্রতি আয়ুর্বেদ চিকিৎসক ডা. দীক্ষ্মা ভাবসার ইনস্টাগ্রামে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কিছু ঘরোয়া প্রতিকারের কথা শেয়ার করেছেন। এই আয়ুর্বেদিক পরামর্শ মেনে চললে মাত্র ১৫ দিনেই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য পাওয়া যেতে পারে। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই নিয়মগুলো:

>> সূর্যের আলো ও ব্যায়াম: প্রতিদিন সকাল ৯টার আগে অন্তত ২০ মিনিট সূর্যের আলোয় কাটান। এর পাশাপাশি, দিনের শুরুতেই ৩০-৪৫ মিনিট হাঁটুন অথবা ব্যায়াম করুন। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

>> আমলকী ও হলুদ: আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞের মতে, প্রতিদিন আমলকী ও হলুদ খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এর জন্য খাবারের এক ঘণ্টা আগে ১ চা চামচ আমলকী এবং ১ চা চামচ হলুদ মিশিয়ে খান।

>> লাউ বা সজনের স্যুপ: সপ্তাহে অন্তত দু’বার সকালের নাস্তা অথবা রাতের খাবারে লাউ বা সজনের স্যুপ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. ভাবসার। এই সবজিগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

>> খাবার নিয়ন্ত্রণে জোর: চিনি, দই, ডুবো তেলে ভাজা খাবার ও সাদা ময়দার ব্যবহার সীমিত করার কথা বলেছেন ডা. ভাবসার। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাবারের পরে বজ্রাসন করারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

>> যোগাসন ও প্রাণায়াম: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মন্ডুকাসন, শশাঙ্কাসন, ভুজঙ্গাসন, বালাসন ও ধনুরাসনের মতো যোগাসন নিয়মিত অনুশীলন করা উচিত। এছাড়াও, কপালভাতি ও অনুলোম-ভিলমের মতো প্রাণায়াম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত উপকারী। প্রতিদিন কমপক্ষে ৫-১০ হাজার পা হাঁটারও পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।

>> রাতের খাবার হালকা: রাতের খাবার সব সময় হালকা হওয়া উচিত। ডা. ভাবসার রাতের খাবারে বেসন, রাগি বা সবজির স্যুপ অথবা মসুর ডালের মতো খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ডা. দীক্ষ্মা ভাবসারের এই আয়ুর্বেদিক পরামর্শগুলি মেনে চললে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল পাওয়া যেতে পারে। তবে, যেকোনো স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।