ওজন কমানোর জন্য জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরানো বা কঠোর ডায়েট মেনে চলা অনেকের পক্ষেই কঠিন। তবে সুখবর হলো, ওজন কমানোর জন্য কেবল জিম আর ডায়েটই একমাত্র রাস্তা নয়। কিছু সহজ অভ্যাস এবং নিয়ম মেনে চললেও ধীরে ধীরে রোগা হওয়া সম্ভব।
প্রতিদিনের জীবনে সামান্য পরিবর্তন এনেও আপনি কাঙ্ক্ষিত ওজন অর্জন করতে পারেন। এর জন্য প্রয়োজন কেবল একটু সচেতনতা এবং নিয়মিত অনুশীলনের।
সকালের শুরু হোক গরম জলে: প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস গরম জল পান করার অভ্যাস করুন। এটি শরীরের জমে থাকা দূষিত পদার্থ বের করে দিতে অত্যন্ত কার্যকর এবং হজমক্ষমতাকেও উন্নত করে।
প্রোটিনের গুরুত্ব: ওজন কমানোর সময় অনেকেই পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করেন না। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে, ফলে বারবার খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। এছাড়াও, এটি শরীরচর্চার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিও যোগায়। ডিম, মাছ, মাংস, ডাল, সয়াবিন ইত্যাদি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার আপনার খাদ্যতালিকায় যোগ করুন।
ধীরে চিবিয়ে খান, ছোট প্লেটে পরিবেশন করুন: তাড়াহুড়ো করে খাবার না খেয়ে ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান। এতে পরিপূর্ণতার অনুভূতি বাড়ে এবং কম খাবারেই পেট ভরে যায়। বড় প্লেটের বদলে ছোট প্লেটে খাবার পরিবেশন করুন, যা আপনাকে কম পরিমাণে খাবার গ্রহণ করতে উৎসাহিত করবে।
হাঁটাচলা ও হালকা ব্যায়াম: জিমে যাওয়ার সময় না পেলে প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করুন। লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করলে মাঝে মাঝে উঠে সামান্য স্ট্রেচিং করুন। ঘরে বসেই ইয়োগা বা ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়ামের মতো হালকা ব্যায়ামও ওজন কমাতে সহায়ক হতে পারে।
পর্যাপ্ত জল পান: দিনের বেলা পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন, বিশেষ করে খাবার গ্রহণের আগে এক গ্লাস জল পান করার অভ্যাস করুন। এটি ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত রাখে। শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা মেটাবলিজমকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।
ঘুমের প্রতি যত্নশীল হোন: পর্যাপ্ত ঘুম (৬-৮ ঘণ্টা) ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত জরুরি। রাতে জেগে থাকলে অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে এবং ঘুমের অভাব শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে ওজন বাড়াতে পারে।
মানসিক চাপ কমান: অতিরিক্ত মানসিক চাপ অনেক সময় “কমফোর্ট ফুড” খাওয়ার প্রবণতা তৈরি করে। মানসিক চাপ কমাতে মেডিটেশন বা বই পড়ার মতো শখের কাজে সময় দিন।
প্রাকৃতিক খাবার গ্রহণ: প্রক্রিয়াজাত খাবার (processed food) এড়িয়ে চলুন এবং প্রাকৃতিক খাবার যেমন শাকসবজি, ফল, প্রোটিন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার (বাদাম, দই ইত্যাদি) বেশি করে খান। চিপস, মিষ্টি বা ফাস্টফুডের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নিন।
ধৈর্য ধরে এই অভ্যাসগুলো অনুসরণ করলে ধীরে ধীরে আপনার ওজন কমবে এবং তা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখাও সম্ভব হবে। যদি আপনি দ্রুত ফল পেতে চান, তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন। মনে রাখবেন, সুস্থ জীবনযাপন এবং সঠিক অভ্যাসের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত ওজন অর্জন করা সম্ভব।