চা ছাড়া বাঙালির সকালটা ঠিক জমে না। ক্লান্তি দূর করতে এক কাপ গরম চায়ের কোনো বিকল্প নেই। তবে কাজের চাপে আমরা অনেকেই একবারে অনেকটা চা বানিয়ে রাখি এবং বারবার গরম করে খাই। চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাসটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। বারবার ফোটানো চায়ের কাপে চুমুক দেওয়া মানেই আসলে শরীরে নানা রোগকে আমন্ত্রণ জানানো।
পুষ্টিগুণ হারানো ও বিষক্রিয়া: চায়ের পাতায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট (ক্যাটেচিন) এবং পলিফেনল থাকে যা শরীরের জন্য উপকারী। কিন্তু চা বারবার ফোটালে এর প্রাকৃতিক গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায় এবং এতে ট্যানিনের মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত ট্যানিন শরীরের আয়রন শোষণে বাধা দেয়, যা থেকে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া হতে পারে।
ব্যাকটেরিয়ার আস্তানা: চা যদি দুধ ও চিনি দিয়ে তৈরি হয় এবং তা অনেকক্ষণ বাইরে রাখা থাকে, তবে তাতে বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে শুরু করে। দীর্ঘক্ষণ রাখা দুধ চা গরম করলে সেই ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয় না, উল্টো হজমের গোলমাল, ফুড পয়জনিং এবং বমির সমস্যা তৈরি করে।
অ্যাসিডিটি ও হার্টবার্ন: বারবার ফোটানো চা পান করলে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদী বুকজ্বালা, অম্বল এবং গ্যাস্ট্রিক আলসারের ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বারবার গরম করা চা লিভারের এনজাইমকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: চা সর্বদা টাটকা খাওয়া উচিত। একবার চা বানানোর ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে তা পান করে নিন। যদি পুনরায় গরম করতেই হয়, তবে চা পাতা সমেত ফোটাবেন না; কেবল হালকা তাপে গরম করুন। সুস্থ থাকতে বারবার চা ফোটানোর অভ্যাস আজই বর্জন করুন।