খাদ্যাভ্যাসে এই ৫টি পরিবর্তন আনলেই কমবে হৃদরোগের ঝুঁকি : সমীক্ষা

হার্টের অসুখ এমন একটি বিষয়, যা বাইরে থেকে আগেভাগে বোঝা বেশ কঠিন। তবে সচেতন থাকলে এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে এই রোগ থেকে অনেকটাই দূরে থাকা সম্ভব। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় মাত্র পাঁচটি সহজ পরিবর্তন আনলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে নিজেদের রক্ষা করা যেতে পারে। আসুন, জেনে নেওয়া যাক সেই গুরুত্বপূর্ণ খাবারগুলো কী কী:

১. ছোলা: হৃদয়ের বন্ধু

ছোলা একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার, যা কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও পটাসিয়াম রয়েছে। শুধু তাই নয়, ছোলা আমাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং সেই সাথে হৃদরোগের ঝুঁকিও হ্রাস করে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ছোলা যোগ করলে আপনার হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকবে।

২. কফি: তিক্ততায় লুকিয়ে স্বাস্থ্য

অনেকেরই পছন্দের পানীয় কফি আমাদের হার্টের জন্যেও দারুণ উপকারী হতে পারে। গবেষণা বলছে, পরিমিত পরিমাণে কফি পান করলে করোনারি হার্ট ডিজিজ, হার্ট ফেইলিওর এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে অবশ্যই অতিরিক্ত কফি পান করা উচিত নয়।

৩. ডুমুর: পুষ্টির ভাণ্ডার

ডুমুর ফল হার্টকে সুরক্ষিত রাখার জন্য অন্যতম সেরা প্রাকৃতিক উৎস। এই ফলটি ক্যালসিয়াম ও ফাইবারে ভরপুর, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মিষ্টি ও রসালো ডুমুর তাই আপনার স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকার অংশ হওয়া উচিত।

৪. ফ্ল্যাক্স বীজ: ওমেগা-৩ এর বিকল্প

যারা মাছ বা বাদাম খেতে পছন্দ করেন না, কিন্তু শরীরে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তাদের জন্য ফ্ল্যাক্স বীজ একটি চমৎকার বিকল্প। এই ছোট বীজগুলো সাধারণত বিভিন্ন খাবারের ওপর টপিং হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ইস্ট্রোজেন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান, যা হার্টের স্বাস্থ্যকে নিশ্চিত করে।

৫. লাল মরিচ: ঝাঁঝালো উপকার

লাল মরিচে ক্যাপসাইসিন নামক একটি উপাদান থাকে, যা উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়ক। এর ফলে হৃদরোগের ঝুঁকিও হ্রাস পায়। তবে যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে, তাদের লাল মরিচ পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত।

এছাড়াও, এই প্রতিবেদনে আরও কিছু স্বাস্থ্যকর খাবারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে:

আদা: এই সুগন্ধি মশলা নিয়মিত খেলে রক্তচাপ ও করোনারি হার্ট ডিজিজের মতো হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
জাম্বুরা: কোলিন, ফাইবার, লাইকোপিন ও পটাসিয়াম সমৃদ্ধ জাম্বুরা হার্টকে সুস্থ রাখার একটি দারুণ উপায় এবং উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
গ্রীন টি: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ গ্রীন টি ধমনীতে ব্ল্যাক তৈরি হওয়া প্রতিরোধ করে এবং এলডিএল কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করে।
কিডনি বিনস: ফোলেট, ম্যাগনেসিয়াম ও প্রোটিন সমৃদ্ধ কিডনি বিন ফ্যাট কম এবং ফাইবার বেশি থাকায় হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
সুতরাং, শুধুমাত্র এই পাঁচটি সহজ পরিবর্তন এনে এবং সেই সাথে অন্যান্য স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করে আমরা আমাদের হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখতে পারি এবং একটি সুস্থ জীবনযাপন করতে পারি। সচেতনতাই পারে হৃদরোগের মতো মারাত্মক ব্যাধি থেকে আমাদের দূরে রাখতে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy