আখের রসেই হিট স্ট্রোক থেকে মুক্তি? এই ভুল ধারণা আপনার বিপদ বাড়াচ্ছে না তো!

প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি পেতে আমরা অনেকেই আখের রসের ওপর ভরসা করি। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, আখের রসকে গ্রীষ্মের স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে গ্রহণ করার আগে কিছু ভুল ধারণা ভেঙে ফেলা জরুরি। অনেকেই মনে করেন আখের রস হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ করে এবং ইলেকট্রোলাইট হিসেবে দারুণ কাজ করে, কিন্তু বাস্তবে এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নগণ্য।
হিট স্ট্রোক মূলত ডিহাইড্রেশন এবং ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতার কারণে ঘটে। শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রতি লিটারে প্রায় ৯০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম বেরিয়ে যায়, অথচ এক গ্লাস আখের রসে সোডিয়ামের পরিমাণ মাত্র ১১-১৭ মিলিগ্রাম। তাই এই পানীয় শরীরকে কার্যকরভাবে হাইড্রেটেড রাখতে পারে না। মূলত, আখের রস পান করলে আপনি শরীরকে রিহাইড্রেট করার বদলে চিনি মিশ্রিত পানি পান করছেন।
এছাড়া, এক গ্লাস আখের রসে প্রায় ২৫ থেকে ৪০ গ্রাম চিনি থাকে, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া রাস্তার ধারের আখের রসের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি বা হাইজিনের বিষয়টিও বড় উদ্বেগের কারণ। শরীরকে আর্দ্র রাখতে এবং তাপজনিত ঝুঁকি কমাতে সাধারণ পানির কোনো বিকল্প নেই। ইলেক্ট্রোলাইটের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পানির সঙ্গে লেবুর রস এবং সামান্য লবণ মিশিয়ে পান করা অনেক বেশি কার্যকর। আখের রস মাঝে মাঝে তৃষ্ণা মেটানোর জন্য পান করা যেতে পারে, কিন্তু হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে বা শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে এর ওপর নির্ভর করা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়।