গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে আমরা যে ‘পিপিআই’ (PPI) জাতীয় ওষুধ খাই, তা পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা কমিয়ে দেয়। সাময়িকভাবে আরাম মিললেও দীর্ঘসময় ধরে এই অ্যাসিডের অভাব শরীরের স্বাভাবিক হজমপ্রক্রিয়া এবং পুষ্টি শোষণে ব্যাঘাত ঘটায়। চিকিৎসকদের মতে, এর ফলাফল হতে পারে মারাত্মক।
দীর্ঘদিন গ্যাসের ওষুধ খাওয়ার ভয়াবহ পরিণাম:
১. কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস: গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা নিয়মিত গ্যাসের ওষুধ খান, তাদের দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে (Chronic Kidney Disease) আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণের তুলনায় অনেক বেশি।
২. হাড়ের ক্ষয় ও ফ্র্যাকচার: পাকস্থলীতে অ্যাসিড কম থাকলে শরীর ক্যালসিয়াম শোষণ করতে পারে না। ফলে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সামান্য আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার (Osteoporosis) সম্ভাবনা তৈরি হয়।
৩. ভিটামিন বি-১২ এবং ম্যাগনেসিয়ামের অভাব: এই ওষুধগুলো শরীরকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ শোষণ করতে বাধা দেয়। এর ফলে রক্তাল্পতা, স্নায়ুর সমস্যা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।
৪. স্মৃতিভ্রম বা ডিমেনশিয়া: বয়স্কদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন এই ওষুধ সেবনে স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া বা আলঝেইমার্সের মতো রোগের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে।
৫. সংক্রমণের ঝুঁকি: পেটের অ্যাসিড ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে। অ্যাসিড কমে গেলে ‘সি-ডিফিসিল’ নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বেড়ে যায়, যার ফলে মারাত্মক ডায়েরিয়া হতে পারে।
উত্তরণের উপায়:
ভাজাভুজি ও অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। রাতে ঘুমানোর অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার সারুন। পর্যাপ্ত জল পান এবং নিয়মিত শরীরচর্চাই হলো গ্যাস্ট্রিকের চিরস্থায়ী সমাধান। খুব প্রয়োজন ছাড়া বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একটানা ১৪ দিনের বেশি গ্যাসের ওষুধ খাওয়া একদমই উচিত নয়।