বারবার সিজার কি শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ? জেনে নিন চিকিৎসকদের পরামর্শ

সন্তান প্রস্রাবের জন্য সিজারিয়ান সেকশন বা সি-সেকশন বর্তমানে একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। তবে বারবার সিজার করা কি শরীরের জন্য নিরাপদ? এই প্রশ্নটি অনেক নারীর মনেই থাকে। চিকিৎসকদের মতে, এর কোনো নির্দিষ্ট গাণিতিক সীমা নেই, তবে ঝুঁকির বিষয়টি সবসময় মাথায় রাখা জরুরি।

চিকিৎসকদের মতামত:

কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই: চিকিৎসকরা সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা (যেমন—২ বা ৩) বেঁধে দেন না। এটি মূলত নির্ভর করে মায়ের শারীরিক অবস্থা, জরায়ুর টিস্যুর গঠন এবং পূর্ববর্তী সিজারের জটিলতার ওপর।

ঝুঁকির কারণ: প্রতিবার সিজারের পর জরায়ুতে একটি কাটা দাগ (Scar) তৈরি হয়। বারবার অস্ত্রোপচারের ফলে জরায়ুর প্রাচীর পাতলা হয়ে যেতে পারে, যা পরবর্তী গর্ভাবস্থায় ‘ইউটেরাইন রাপচার’ বা জরায়ু ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।

অন্যান্য সমস্যা: বারবার অস্ত্রোপচারের ফলে প্লাসেন্টা অ্যাক্রিটা (Placenta Accreta) নামক জটিলতা দেখা দিতে পারে, যেখানে গর্ভফুল জরায়ুর পেশির গভীরে আটকে যায়। এটি মা ও শিশু উভয়ের জন্যই অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।

সতর্কতা ও পরামর্শ:
১. দুই গর্ভাবস্থার মাঝে বিরতি: চিকিৎসকদের মতে, সিজারের পর পরবর্তী গর্ভাবস্থার জন্য অন্তত ১৮ থেকে ২৪ মাস বা দেড় থেকে দুই বছর বিরতি নেওয়া একান্ত প্রয়োজন। এতে জরায়ুর ক্ষত পুরোপুরি সেরে ওঠার সুযোগ পায়।
২. বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: যদি আপনি এর আগেও একাধিকবার সিজার করিয়ে থাকেন এবং পুনরায় গর্ভধারণের পরিকল্পনা করেন, তবে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নিন। তিনি আপনার জরায়ুর অবস্থা পরীক্ষা করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে পারবেন।
৩. নিরাপদ পরিবেশ: বারবার সিজারের ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং রক্ত সঞ্চালনের সুবিধা আছে এমন হাসপাতালেই ডেলিভারি করানো উচিত।

মনে রাখবেন, প্রতিটি মানুষের শরীর আলাদা। তাই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত চেকআপই হলো বারবার সিজারিয়ান ডেলিভারির ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy