আজকালকার অনিয়মিত জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে ডায়াবেটিস বা মধুমেহ রোগ এখন ঘরে ঘরে। এক সময় ভাবা হতো এটি কেবল বয়স্কদের রোগ, কিন্তু বর্তমান পরিসংখ্যান বলছে একদম উল্টো কথা। চিকিৎসকদের মতে, আমাদের অজান্তেই ‘সাইলেন্ট কিলার’ হিসেবে থাবা বসাচ্ছে এই রোগ।
কখন থেকে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে ৪৫ বছর বয়সকে ডায়াবেটিস পরীক্ষার জন্য আদর্শ মনে করা হলেও, বর্তমানে তা নামিয়ে আনা হয়েছে। এখন চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো— ৩৫ বছর বয়স হলেই প্রত্যেকের অন্তত একবার গ্লুকোজ টেস্ট করানো উচিত। তবে আপনার যদি স্থূলতা (Obesity) বা পরিবারের কারও ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকে, তবে ৩০ বছরের পর থেকেই পরীক্ষা শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ।
কেন এই সতর্কতা?
লক্ষণহীন আক্রমণ: টাইপ-২ ডায়াবেটিসের প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় বোঝাই যায় না।
অকাল হৃদরোগের ঝুঁকি: রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে তা হৃৎপিণ্ড ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
লাইফস্টাইল ফ্যাক্টর: অত্যধিক কাজের চাপ, অনিদ্রা এবং ফাস্ট ফুডের অভ্যাসের কারণে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে।
কী কী পরীক্ষা করবেন?
প্রাথমিকভাবে ‘ফাস্টিং প্লাজমা গ্লুকোজ’ (Fasting Plasma Glucose) এবং ‘HbA1c’ টেস্টের মাধ্যমে শরীরে শর্করার সঠিক অবস্থা জানা যায়।
মনে রাখবেন: সময়মতো শনাক্তকরণ এবং জীবনযাত্রার সামান্য পরিবর্তন আপনাকে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই আজই আপনার রক্ত পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করুন।