হার্ট অ্যাটাক একটি নীরব ঘাতক হতে পারে, তবে আমাদের শরীর প্রায়শই এর আগাম লক্ষণ জানিয়ে দেয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নারী এবং পুরুষ ভেদে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো কিছুটা আলাদা হতে পারে। তাই এই বিপদ সংকেতগুলো সঠিকভাবে চিনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, যাতে সময় মতো ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে জীবন বাঁচানো যায়। নিচে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো, যা দেখা দিলে কোনো রকম বিলম্ব না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
সাধারণ লক্ষণ:
শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট: যদি হঠাৎ করে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, দম আটকে আসে বা ঘন ঘন হাঁপিয়ে ওঠার অনুভূতি হয়, তবে এটি হৃদযন্ত্রের সমস্যার একটি বড় লক্ষণ হতে পারে। হৃদযন্ত্র ঠিকমতো কাজ না করলে ফুসফুসে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না, যার ফলে এমনটা হতে পারে।
অতিরিক্ত ঘাম ও ক্লান্তি: কোনো কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, সামান্য পরিশ্রমেও হাঁপিয়ে ওঠা বা হঠাৎ ক্লান্তি অনুভব করা দুশ্চিন্তার কারণ। শরীরে রক্ত চলাচল ঠিকঠাক না হলে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঠিক পরিমাণে অক্সিজেন পায় না, যার ফলে এমন লক্ষণ দেখা দেয়।
রাতে ঘুম ভাঙলে ঘাম: যদি মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখেন দরদর করে ঘাম ঝরছে, তবে এটিকে উপেক্ষা করবেন না। এটি হার্ট অ্যাটাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত হতে পারে।
বুকে ব্যথা বা চাপ: বুকে ব্যথা বা চাপ লাগার মতো অনুভূতি হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ। এই ব্যথা বুকের মাঝখানে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে বাঁ হাত, গলা বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
নারীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন লক্ষণ:
পুরুষদের তুলনায় নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের কিছু লক্ষণ আলাদা হতে পারে। বুকে ব্যথা, ঘাম হওয়া বা হাঁপ ধরার পাশাপাশি নারীদের মধ্যে কিছু অন্যান্য লক্ষণও দেখা যায়, যেমন:
পেটে অস্বস্তি: পেটে অস্বস্তি, বমি বমি ভাব বা বদহজমের মতো অনুভূতি হতে পারে, যা অনেক সময় গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সাথে গুলিয়ে ফেলা হয়।
পিঠে ব্যথা: পিঠের উপরের অংশে বা কাঁধে ব্যথা অনুভব করাও নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের একটি লক্ষণ হতে পারে।
মাথা ঘোরানো বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া: হঠাৎ মাথা ঘোরানো বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার প্রবণতাও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে