বনগাঁর নয়া গোপালগঞ্জের মাচা অনুষ্ঠান ঘিরে শুরু হওয়া মিমি চক্রবর্তী বনাম তনয় শাস্ত্রীর লড়াই এবার আদালত পর্যন্ত গড়াল। সোমবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে মিমির বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা দায়ের করলেন ইভেন্ট অর্গানাইজার তনয় শাস্ত্রী। তাঁর আইনজীবী তরুণজ্যোতি তেওয়ারির মাধ্যমে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। মূলত মানহানি এবং চুক্তি ভঙ্গের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে।
অভিযোগের মূল বিষয়গুলি কী কী? তনয় শাস্ত্রীর দায়ের করা মামলায় দুটি প্রধান অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে: ১. আর্থিক প্রতারণা: তনয়ের দাবি, ২৫ জানুয়ারির অনুষ্ঠানের জন্য মিমিকে অগ্রিম ২ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময় (রাত ১০:৩০) না এসে তিনি দেড় ঘণ্টা দেরি করে পৌঁছান এবং মাত্র আধ ঘণ্টা অনুষ্ঠান করে মঞ্চ ছাড়েন। তনয় এখন সেই পারিশ্রমিকের পুরো টাকাটাই ফেরত চাইছেন। ২. মানহানি: মিমির দায়ের করা হেনস্থার অভিযোগে তনয়কে ১৪ দিন জেল হেফাজতে থাকতে হয়েছিল। তনয়ের দাবি, মিমি সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাঁর সামাজিক সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন। এর ক্ষতিপূরণ বাবদ তিনি মিমির কাছে ২০ লক্ষ টাকা দাবি করেছেন।
আইনি লড়াইয়ের উত্তাপ উল্লেখ্য, এর আগেই মিমি চক্রবর্তী তনয়ের বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকার পাল্টা মানহানির নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। তবে তনয় এবার সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হলো। তনয় জানিয়েছেন, তাঁকে জনসমক্ষে হেনস্থা করা হয়েছে এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে, যার বিচার তিনি শেষ দেখে ছাড়বেন। অন্যদিকে, মিমি আগেই স্পষ্ট করেছিলেন যে শিল্পীদের অসম্মান করাটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে কিছু মানুষের, যার প্রতিবাদ তিনি চালিয়ে যাবেন। বনগাঁ কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি কবে হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহল।