বলিউডের বিখ্যাত অভিনেত্রী স্মিতা পাটিলের অকাল প্রয়াণ কেবল চলচ্চিত্র জগৎকেই নয়, ভেঙে দিয়েছিল এক অসামান্য সংসারকেও। স্মিতার মৃত্যুর পর তাঁর সন্তান প্রতীক বব্বর বেড়ে উঠেছেন এক গভীর অভিমান ও ক্ষোভের সঙ্গে। শৈশবে মায়ের স্নেহবঞ্চিত প্রতীক বরাবরই দাবি করে এসেছেন যে, জীবনের প্রতিটি কঠিন সময়ে তিনি তাঁর বাবা রাজ বব্বরের ভালোবাসা বা সমর্থন পাননি। বাবার প্রতি সেই গভীর ক্ষোভ থেকেই প্রতীক এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন—তিনি তাঁর নামের পাশ থেকে ‘বব্বর’ পদবি মুছে ফেলেন। এখন তিনি নিজেকে পরিচয় দেন ‘প্রতীক স্মিতা পাটিল’ হিসেবে। শুধু পদবি ত্যাগই নয়, প্রতীকের বিয়েতেও অনুপস্থিত ছিলেন বাবা রাজ বব্বর, যা পারিবারিক দূরত্বের ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট করে দিয়েছিল।
এই পারিবারিক বিবাদ নিয়ে এতদিন নানা গুঞ্জন চললেও, সম্প্রতি সৎ ভাই আর্য বব্বরের মন্তব্যে নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বলে উঠেছে। প্রতীকের স্ত্রী প্রিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় একদা অভিযোগ করেছিলেন যে, বিপদের দিনে প্রতীকের পাশে দাঁড়ায়নি বব্বর পরিবার। যদিও রাজ বব্বরের কন্যা জুহি বব্বর সেই দাবি নস্যাৎ করে বলেছিলেন যে তাঁদের সম্পর্ক মধুর, কিন্তু আর্য বব্বরের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আর্য স্পষ্ট করেছেন যে, ব্যক্তিগত পর্যায়ে তিনি প্রতীকের শত্রু নন, বরং অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টাও করেছেন। কিন্তু তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রতীক নিজেই প্রথমবার বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে যাবতীয় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন। আর্য অত্যন্ত আবেগঘন সুরে বলেন, “স্মিতা মায়ের জন্য বাবা আমাদের ছেড়েছিলেন। এটা মেনে নেওয়া কঠিন ছিল। আজ সেই স্মিতা মায়ের ছেলে বাবার প্রতি নূন্যতম শ্রদ্ধাটুকু দেখাচ্ছে না, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”
আর্যর অভিযোগ কেবল এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতীকের বিরুদ্ধে তিনি একপ্রকার স্বার্থপরতার অভিযোগ এনে বলেন, “প্রতীকের যখনই আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন হয়, কেবল তখনই ও বাবার কাছে ফেরে। নিজের স্বার্থে বাবার নাম ব্যবহার করবে, আবার অন্য সময় বাবাকে অপমান করবে—এটা মেনে নেওয়া যায় না।” আর্যর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর বলিপাড়ায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
বব্বর পরিবারের এই পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি স্পষ্ট করছে যে, স্মিতা পাটিলের মৃত্যুর এত বছর পার হয়ে গেলেও, তাঁর পারিবারিক জীবনে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল, তা আজও সারেনি। প্রতীক একদিকে মায়ের স্মৃতি আঁকড়ে নিজের একাকী পথ তৈরি করছেন, অন্যদিকে রাজ বব্বরের প্রথম পক্ষের সন্তানরা মনে করছেন প্রতীক ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন। সম্পর্কের এই জটিল সমীকরণ ও মান-অভিমানের লড়াই এখন গোটা বলিপাড়ার আলোচনার কেন্দ্রে। আর্য শেষমেশ জানিয়েছেন, প্রতীক চাইলে আজও তাঁরা সম্পর্ক জোড়া লাগাতে প্রস্তুত, কিন্তু প্রতীকের বর্তমান অনমনীয় মনোভাব সেই পথকে আরও সংকীর্ণ করে তুলছে।





