বলিউডের রূপালি পর্দায় তিনি যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন গোটা দেশ তাঁকে ‘নায়ক’ হিসেবে কুর্নিশ জানিয়েছিল। ১৯৯০-এর দশকের সেই ব্লকবাস্টার ছবি ‘নায়ক’-এ অনিল কাপুরের ‘একদিনর মুখ্যমন্ত্রী’র চরিত্র আজও মানুষের মনে গেঁথে আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, পর্দায় যিনি সমাজ সংস্কারক হয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছিলেন, বাস্তব জীবনে তিনি কেন রাজনীতির ময়দান থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখলেন? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই রহস্যের সমাধান করলেন স্বয়ং ‘ঝাকাস’ অভিনেতা।
অনিল কাপুর খোলাখুলি জানিয়েছেন যে, অভিনয় এবং বাস্তব জীবনের রাজনীতি সম্পূর্ণ আলাদা। পর্দার লড়াইয়ে চিত্রনাট্য থাকে, কিন্তু বাস্তবের রাজনীতিতে থাকে জটিল সমীকরণ। অভিনেতার কথায়, “আমি পর্দায় মানুষের প্রতিনিধি হতে ভালোবাসি, কিন্তু বাস্তবের নেতা হওয়া আমার ধাতে নেই।” তিনি বিশ্বাস করেন যে তাঁর জায়গা হলো বিনোদনের জগতে, যেখানে তিনি মানুষকে আনন্দ দিতে পারেন। বাস্তবের ‘নায়ক’ হওয়ার লোভ তিনি কখনওই করেননি, কারণ তিনি নিজের সীমাবদ্ধতা এবং প্যাশন সম্পর্কে সচেতন।
রাজনীতির মঞ্চে পা না রাখার পিছনে তাঁর পরিবারের শান্তি এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাও কাজ করেছে। বহুবার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে প্রস্তাব পেলেও অনিল কাপুর অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি মনে করেন, একজন অভিনেতার কাজ হলো শিল্পের মাধ্যমে সমাজকে আয়না দেখানো, সরাসরি প্রশাসনিক গদিতে বসে কাজ করা নয়। অনিল কাপুরের এই সিদ্ধান্ত তাঁর অগণিত ভক্তের কাছে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ তিনি সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য রাজনীতির সিঁড়ি ব্যবহার করতে চাননি।