তিলোত্তমার বুকে আরও একবার মেঠো সুর আর বিশ্বজনীন তালের মহামিলন। দেখতে দেখতে পা দিল অষ্টম সংস্করণে, আর পূর্ণ করল পথচলার এক যুগ। লোপামুদ্রা মিত্র প্রোডাকশন এবং ‘দোহার’-এর যৌথ উদ্যোগে শহর কলকাতায় শুরু হচ্ছে লোকসংস্কৃতির মহোৎসব ‘সহজ পরব’। আগামী ৬, ৭ এবং ৮ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় জাদুঘর ও জিডি বিড়লা সভাঘর সেজে উঠছে প্যালেস্তাইনের বেহালা, মণিপুরের নাচ আর বাংলার বাউল-কীর্তনের জাদুতে।
২০১৪ সালে শিল্পী লোপামুদ্রা মিত্র এবং প্রয়াত কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যের হাত ধরে যে স্বপ্নের পথচলা শুরু হয়েছিল, তা আজ মহীরুহ। এবারের উৎসবে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে প্যালেস্তাইনের সুর। প্যালেস্তাইনের প্রখ্যাত বেহালা বাদক আক্রম আব্দুলফতেহ তাঁর সুরের মূর্ছনায় মাতাবেন কলকাতাকে। এছাড়াও মণিপুরের লোকনৃত্য, কাটোয়ার রণপা এবং দিনাজপুরের মুখা নৃত্যের এক বর্ণাঢ্য সমাহার থাকছে এই তিন দিনে।
উৎসবের নির্ঘণ্ট:
-
৬ ফেব্রুয়ারি (ভারতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণ): বিকেল ৪টে থেকে শুরু হবে ‘সহজ যাত্রা’। মুর্শিদাবাদের ঢাক, ঝুমুর, বিহু আর শ্রীখোলের সুরে তৈরি হবে মায়াজাল। এদিন ‘সহজ পরব সম্মান’ প্রদান করা হবে খোদা বক্স ফকিরকে।
-
৭ ফেব্রুয়ারি (জিডি বিড়লা সভাঘর): দ্বিতীয় দিনে থাকছে পরভিন সুলতানার কীর্তন এবং প্যালেস্তাইনের বেহালা বাদক আক্রম আব্দুলফতেহর বিশেষ পরিবেশনা।
-
৮ ফেব্রুয়ারি (জিডি বিড়লা সভাঘর): শেষ দিনে লক্ষণ দাস বাউলের গান, মণিপুরের লোকশিল্প এবং প্রহ্লাদ সিং টিপানিয়া ও পার্বতী বাউলের অসাধারণ যুগলবন্দী।
শিল্পী লোপামুদ্রা মিত্রের কথায়, “শিকড়ের সুরকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।” অন্যদিকে রাজীব দাসের মতে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই পরব নিয়ে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা অভাবনীয়। শীতের শেষে বসন্তের এক ঝিলিক নিয়ে আসা এই ‘সহজ পরব’ এবারও যে শহরবাসীকে মুগ্ধ করবে, তা বলাই বাহুল্য।