৫৬০ কোটির সাম্রাজ্য! অভিনয় ছাপিয়ে ব্যবসায়িক বুদ্ধিতেই বাজিমাত আলিয়া ভাটের, জানুন আয়ের গোপন উৎস

হিন্দি সিনেমার বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম সফল এবং প্রভাবশালী অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। কেবল অভিনয়ের দক্ষতার জোরেই নয়, বরং সঠিক ব্যবসায়িক দূরদর্শিতার কারণেও তিনি আজ বিনোদন জগতের এক অনন্য নাম। বর্তমানে আলিয়া বলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রীদের তালিকায় প্রথম সারিতে রয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি ছবির জন্য তিনি ১৫ থেকে ১৮ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন এবং বিজ্ঞাপনের একদিনের শুটিংয়ের জন্য তাঁর আয় প্রায় ২ কোটি টাকা। তবে তাঁর আয়ের উৎস কেবল চলচ্চিত্রেই সীমাবদ্ধ নয়।
অভিনয়ের পাশাপাশি ২০২০ সালে আলিয়া নিজের প্রোডাকশন হাউস ‘ইটারনাল সানশাইন প্রোডাকশনস’ প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংস্থার ব্যানারে প্রথম ছবি ‘ডার্লিংস’ মুক্তি পেয়েই অভাবনীয় সাফল্য পায়। পরবর্তীতে ‘জিগরা’-র মতো প্রজেক্টের হাত ধরে তিনি ক্যামেরার পেছনের প্রযোজনা শিল্পেও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করছেন।
একজন সফল উদ্যোগপতি হিসেবেও আলিয়া ভাট এখন সাফল্যের নতুন উচ্চতায়। ২০২০ সালে তিনি বাচ্চাদের এবং গর্ভবতী মায়েদের জন্য পরিবেশবান্ধব পোশাকের ব্র্যান্ড ‘এড-আ-মাম্মা’ (Ed-a-Mamma) শুরু করেন। অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে এই ব্র্যান্ডটি ১৫০ কোটি টাকার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। এছাড়া তিনি একাধিক স্টার্টআপে বিনিয়োগ করেছেন। ফ্যাশন প্ল্যাটফর্ম ‘স্টাইল ক্র্যাকার’, বিউটি রিটেলার ‘নাইকা’, পরিবেশবান্ধব ব্র্যান্ড ‘ফুল’ এবং ‘সুপারবটমস’-এর মতো সংস্থায় তাঁর বিনিয়োগ প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল অভিনেত্রী নন, একজন তুখোড় ব্যবসায়ীও বটে।
আলিয়ার বিলাসবহুল জীবনযাত্রার কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসে তাঁর গাড়ির সংগ্রহের কথা। তাঁর গ্যারেজে রয়েছে ২ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ল্যান্ড রোভার রেঞ্জ রোভার ভোগ, ১.৭৬ কোটি টাকার বিএমডব্লিউ ৭ সিরিজ এবং বেশ কিছু প্রিমিয়াম অডি মডেল। বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট এবং স্মার্ট বিনিয়োগ মিলিয়ে আলিয়ার বর্তমান সম্পত্তির পরিমাণ আনুমানিক ৫৬০ কোটি টাকা।
আজ ‘আলফা’ ছবির সাফল্যের সাথে সাথে আলিয়া প্রমাণ করলেন, তাঁর লক্ষ্য কেবল বক্স অফিস নয়। একজন তরুণী অভিনেত্রী থেকে প্রযোজক ও উদ্যোগপতি হয়ে ওঠার এই যাত্রা তাঁর প্রতিভা, ব্যবসায়িক বুদ্ধিমত্তা এবং সুশৃঙ্খল আর্থিক পরিকল্পনার এক অসাধারণ উদাহরণ। তিনি কেবল ভারতীয় সিনেমার পর্দা কাঁপানো তারকা নন, বরং আধুনিক ভারতীয় তরুণীদের কাছে সফল হওয়ার এক বাস্তব অনুপ্রেরণা।