২০ ফুটের বিশাল মূর্তি আর চার দিনের মেগা উৎসব! মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষে নজিরবিহীন উদ্যোগ

পর্দা থেকে শহরের রাজপথ, নস্ট্যালজিয়া থেকে উদ্যাপন—বাঙালির চিরকালীন আবেগ মহানায়ক উত্তম কুমার যেন আবারও ফিরে আসছেন সশরীরে। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাঁর অবদান কেবল একজন অভিনেতার নয়, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্মের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। সেই মহাতারকার জন্মশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে চার দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই বিশেষ উদ্যাপনের অঙ্গ হিসেবে সিনেমা প্রদর্শন, বিশেষ আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি শহরের বুকে এক অনন্য চমক হিসেবে বিজলী সিনেমার সামনে উন্মোচিত হতে চলেছে মহানায়কের ২০ ফুটের একটি বিশাল মূর্তি।
এই জমকালো আয়োজনকে সামনে রেখে সম্প্রতি একটি বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ, রুদ্রনীল ঘোষ এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্ট শিল্পীরা। বৈঠকেই চার দিনের এই বর্ণাঢ্য কর্মশালার পুরো ব্লু-প্রিন্ট প্রকাশ্যে আনা হয়। তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী জানান, বিজলী সিনেমার সামনে এই বিশালাকার মূর্তি উন্মোচনের মধ্য দিয়েই মহানায়কের অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি উত্তম কুমারের সিনেমা, তাঁর অভিনয়শৈলী এবং বাঙালির মননে তাঁর গভীর প্রভাবকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে একাধিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
চার দিনব্যাপী এই আয়োজনের অঙ্গ হিসেবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহ এবং সাংস্কৃতিক মঞ্চে দেখানো হবে তাঁর অমর সৃষ্টিগুলি। আগামী ৫ তারিখে নন্দনে প্রদর্শিত হবে কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘নায়ক’, এবং রাধা স্টুডিওতেও চলবে তাঁর একাধিক ক্লাসিক ছবির স্ক্রিনিং। শুধু ছবি দেখানোই নয়, বরং তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে হবে গভীর আলোচনা। বিশেষ করে সেকালের নায়িকাদের চোখে উত্তম কুমার ঠিক কেমন ছিলেন, সেই ব্যক্তিগত ও পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গিও উঠে আসবে বক্তাদের আলোচনায়। পর্দার বাইরের মানুষটিকে আবিষ্কার করার এই অভিনব প্রয়াস দর্শকদের বাড়তি পাওনা হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
পরের দিন অর্থাৎ ৬ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্র সদনে বসবে এক বিশাল সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আসর। মহানায়কের জনপ্রিয় গান, তাঁকে উৎসর্গ করা নৃত্য এবং মনজ্ঞ আলোচনায় জমজমাট থাকবে সেই রাত। এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ‘মহানায়ক: A Superstar Journey’ শীর্ষক একটি বিশেষ প্রদর্শনী। যেখানে বিরল ছবি ও তথ্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে তাঁর বর্ণময় জীবন। শুধু প্রেক্ষাগৃহের চার দেওয়ালের মধ্যেই নয়, বরং কলকাতার হোর্ডিং, ল্যাম্পপোস্ট, বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে LED ভ্যানেও ছড়িয়ে থাকবে মহানায়কের স্মৃতি। এই বিশাল উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে অভিনেতা জিৎ জানান, নতুন প্রজন্মের কাছে উত্তম কুমারের মাহাত্ম্য পৌঁছে দেওয়ার এই প্রয়াস অত্যন্ত প্রশংসনীয়।