সোশ্যাল মিডিয়ায় নেগেটিভ রিভিউ কি পয়সা দিয়ে করানো? ‘নেভারমাইন্ড’ বিতর্কে তোলপাড় টলিপাড়া

সিনেমার প্রচারকে কেন্দ্র করে টলিপাড়ায় এখন চরম বিতর্ক। পরিচালক হিসেবে চৈতি ঘোষালের অভিষেক এবং ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত প্রযোজিত ‘নেভারমাইন্ড’ ছবিটিকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে বাগযুদ্ধ। ইউটিউবার ঝিলম গুপ্তের সমালোচনামূলক ভিডিওর পাল্টা জবাব দিয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী রূপম ইসলামের স্ত্রী রূপসা দাশগুপ্ত। আর এই ঘটনার রেশ ধরে এখন বড় প্রশ্ন উঠেছে—সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতিবাচক প্রচার কি শুধুই ব্যক্তিগত মতামত, না কি এর আড়ালে রয়েছে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন?

সম্প্রতি ইউটিউবার ঝিলম গুপ্ত ‘নেভারমাইন্ড’ ছবির প্রচারের ধরন নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি ছবি না দেখেই দাবি করেন, ছবির প্রচার পদ্ধতি ‘হাস্যকর’ এবং ‘পারিবারিক নিমন্ত্রণের’ মতো। বিশেষ করে ছবির প্রিমিয়ারে তারকাদের আবেগ দেখে তিনি একে ‘শোকসভা’র সাথে তুলনা করেন। ঝিলমের এই মন্তব্যে ক্ষিপ্ত হয়ে রূপসা দাশগুপ্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন। রূপসার অভিযোগ ছিল, ঝিলম হয়তো অর্থের বিনিময়েই এই নেগেটিভ রিল তৈরি করেছেন। তিনি অমর্ত্য রায়ের যোগ্যতাকে তুলে ধরে জানান, অমর্ত্য কোনো পরিচিতির জোরে নয়, নিজের প্রতিভাতেই ‘উড়োনচণ্ডী’ বা ‘ময়দান’-এর মতো ছবিতে কাজ করেছেন। এমনকি পুনের এফটিআইআই থেকে পড়াশোনা করা অমর্ত্যকে ‘স্টার কিড’ বলে কটাক্ষ করাকে তিনি অন্যায্য বলে মনে করেন।

বিতর্ক বাড়লে রূপসা ব্যক্তিগতভাবে ঝিলমের সাথে যোগাযোগ করেন। ঝিলম তাঁকে স্পষ্ট জানান যে, তিনি কোনো টাকা নিয়ে এই ভিডিও করেননি, যা তাঁর মনে হয়েছে তা-ই বলেছেন। রূপসা পরে জানান, ঝিলমের সাথে কথা বলার পর তিনি বুঝতে পেরেছেন এটি তাঁর ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। তবুও এই ঘটনা টলিউডের অন্দরের একটি বড় অস্বস্তিকে সামনে নিয়ে এসেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের দাবি, টলিপাড়ায় ‘পেড নেগেটিভ প্রমোশন’ বা অর্থের বিনিময়ে নেতিবাচক প্রচারের সংস্কৃতি নতুন কিছু নয়। ব্যক্তিগত শত্রুতা, পেশাগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা কোনো সফল কাজকে ছোট করার জন্য ইনফ্লুয়েন্সারদের মোটা টাকা দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পরিস্থিতি অনুযায়ী, এই ধরনের কাজের পারিশ্রমিক ৫০ হাজার টাকা থেকে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। নির্বাচনী প্রচারের মতো এখন বিনোদন জগতেও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার’ বা ‘স্ল্যাম ক্যাম্পেইন’ নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যদিও ঝিলম গুপ্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন, তবুও রূপসা দাশগুপ্তের এই মন্তব্য সিনেমা জগতের বিশ্বাসযোগ্যতাকে নতুন করে সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে প্রতিটি রিভিউর পেছনে কি সত্যিই কোনো অর্থনৈতিক সমীকরণ কাজ করে? এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অধরা। তবে এই বিতর্ক প্রমাণ করল যে, প্রচারের দুনিয়ায় এখন ‘ভাইরাল’ হওয়ার লড়াইয়ে ন্যায়-অন্যায়ের সীমানা ক্রমশ ঝাপসা হয়ে আসছে। ছবি মুক্তির আগেই বিতর্ক আর উত্তাপের জেরে এখন গোটা টলিপাড়া দ্বিধাবিভক্ত।