সুশান্ত-পরবর্তী দুঃসহ স্মৃতি, ট্রমা ও অবসাদের দিনগুলি নিয়ে মুখ খুললেন রিয়া চক্রবর্তী!

২০২০ সালে অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর বলিউডের যে নামটি সবচেয়ে বেশি বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল, তা হলো রিয়া চক্রবর্তী। সুশান্তের মৃত্যুর পর তাঁকে ঘিরে ওঠা অসংখ্য অভিযোগ, আইনি তদন্ত এবং গ্রেপ্তারের ঘটনা তাঁর জীবনকে চিরতরে বদলে দিয়েছিল। যদিও সেই মর্মান্তিক ঘটনার চার বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু সেই সময়ের মানসিক ক্ষত আজও রিয়া ও তাঁর পরিবারের মনে অমীমাংসিত। সম্প্রতি নেহা ধূপিয়া এবং অঙ্গদ বেদীর একটি চ্যাট শো-তে ভাই শৌভিকের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে রিয়া সেই কঠিন দিনগুলোর কথা শেয়ার করলেন।
সাক্ষাৎকারে রিয়া জানান, তিনি জীবনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন ঠিকই, কিন্তু সেই সময়ের মানসিক আঘাত বা ট্রমা তাঁকে আজও তাড়া করে ফেরে। তিনি বলেন, “কিছু যন্ত্রণা কেবল স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকে না, তা শরীর ও মনে গভীর দাগ রেখে যায়।” নেহা ধূপিয়ার প্রশ্নের জবাবে রিয়া স্বীকার করেন যে, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসা অসম্ভব। তিনি বলেন, “আরোগ্যলাভ কোনো একক গন্তব্য নয়, এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রক্রিয়া। আমরা থেরাপি নিচ্ছি এবং লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।”
রিয়ার ভাই শৌভিক চক্রবর্তী জানান, সুশান্তের মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। বিজনেস স্কুলে পড়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাওয়া শৌভিকের জীবন এক লহমায় তছনছ হয়ে যায়। তিনি বলেন, “সেই দুঃসময় থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর সময় লেগেছে।” শৌভিক আরও স্বীকার করেন যে, মানসিক যে ধাক্কা তাঁরা খেয়েছিলেন, তার রেশ আজও রয়ে গেছে এবং তিনি পিটিএসডি-র প্রভাব থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি।
রিয়া জানান, জনসমক্ষে তাঁদের ব্যক্তিগত বিপর্যয় যেভাবে প্রচারিত হয়েছিল, তা তাঁদের যন্ত্রণা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। মিডিয়া ট্রায়াল এবং মানুষের কটু মন্তব্য তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথকে আরও জটিল করে তুলেছিল। রিয়া বলেন, “আমাদের জীবন সবার চোখের সামনে খোলা খাতার মতো ছিল, যা সেই ক্ষতগুলো সারাতে আমাদের অনেক সময় নিয়েছে।”
বর্তমানে অভিনেত্রী নিজের পেশাগত জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন এবং ব্যক্তিগত লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছেন। শো-তে ভাই-বোনের এই সততা এবং লড়াইয়ের গল্প দর্শকদের আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। অনেকের মতে, রিয়া চক্রবর্তীর এই খোলাখুলি আলোচনা মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহসকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। রিয়া ও শৌভিক এখন অতীতের সেই ট্রমাকে সঙ্গী করেই ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়াতে চাইছেন, তবে সেই কালো অধ্যায় যে তাঁদের হৃদয়ে এক স্থায়ী চিহ্ন রেখে গেছে, তা তাঁদের কথাতেই স্পষ্ট।