বলিউডের রুপোলি পর্দায় প্রেমের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছিল একটি নাম— ‘শাহরুখ-কাজল’। নব্বইয়ের দশকের সেই নস্টালজিয়া আজও কোটি কোটি ভারতীয়র কাছে এক সুন্দর অনুভূতি। ‘বাজিগর’ দিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রায় ইতিহাস তৈরি হয়েছিল ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ (DDLJ)-র মাধ্যমে। রাজ আর সিমরন যেন হয়ে উঠেছিলেন আপামর ভারতবাসীর স্বপ্নের নায়ক-নায়িকা। বাস্তব জীবনে শাহরুখ-গৌরী বা কাজল-অজয়ের সংসার থাকলেও, দর্শকদের চোখে তাঁরা আজও ‘রাজ-সিমরন’ হয়েই থেকে গেছেন।
সুপারহিট রসায়ন ও বক্স অফিস দাপট: যখনই এই জুটি পর্দায় এসেছেন, বক্স অফিসে প্লাবন এসেছে। ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর কলেজ প্রেম হোক বা ‘কভি খুশি কভি গম’-এর পারিবারিক ড্রামা, কিংবা ‘মাই নেম ইজ খান’-এর গম্ভীর অভিনয়— তাঁদের স্বাভাবিক রসায়নই ছিল তুরুপের তাস। ২০১৫ সালে ‘দিলওয়ালে’ ছবিতে দীর্ঘ বিরতির পর তাঁদের প্রত্যাবর্তন পুরনো স্মৃতিকে আবার টাটকা করে দিয়েছিল।
বরুণ ধাওয়ানের সেই মজার স্মৃতি: শাহরুখ-কাজলের কেমিস্ট্রি এতটাই বাস্তবসম্মত ছিল যে খোদ বরুণ ধাওয়ানও ছোটবেলায় ধোঁকা খেয়েছিলেন। একবার শাহরুখের বাড়িতে গিয়ে দরজা খুলতে গৌরী খানকে দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন বরুণ। তিনি ভেবেছিলেন কাজলই বোধহয় শাহরুখের স্ত্রী! পরে মায়ের কাছে আসল সত্যিটা জেনে তাঁর ভুল ভাঙে। এই ঘটনাটিই প্রমাণ করে সাধারণ মানুষের মনে এই জুটির প্রভাব কতটা গভীর।
অমর বন্ধুত্বের সমীকরণ: হলিউডের ‘টাইটানিক’ জুটি লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও এবং কেট উইন্সলেটের সঙ্গে প্রায়ই তুলনা করা হয় এই জুটিকে। গত বছর লন্ডনে তাঁদের ব্রোঞ্জের মূর্তি উন্মোচন বা পুরস্কার মঞ্চে ‘তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সনম’ গানে তাঁদের পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করেছে যে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বদলে গেলেও শাহরুখ-কাজল জুটির ‘কিক’ অন্য কেউ দিতে পারবে না। তাঁদের পর্দার প্রেম আসলে বাস্তবের এক নিখাদ বন্ধুত্বের প্রতিফলন— ঠিক যেমন রাহুল বলেছিল, “প্যায়ার দোস্তি হ্যায়”।