নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ, তখন বলিউডে একের পর এক নতুন তারকার উদয় হচ্ছে। সেই সময়েই নিজের স্নিগ্ধ সৌন্দর্য ও অনবদ্য অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন প্রিয়া গিল। ১৯৯৫ সালে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার পর স্বপ্নের শহর মুম্বাইতে পা রাখা। কিন্তু গ্ল্যামার দুনিয়ার ঝকঝকে জীবনের আড়ালে প্রিয়ার ব্যক্তিগত জীবনে ছিল এক গভীর ক্ষত। অভিনয় শুরুর আগেই এক বিমান দুর্ঘটনায় নিজের বাগদত্তাকে হারিয়েছিলেন তিনি। সেনাবাহিনীতে কর্মরত সেই পাইলটকে হারানোর শোক সামলে, পরিবারের অনুপ্রেরণায় শুরু করেছিলেন নতুন লড়াই।
বলিউডে যখন ঐশ্বর্যা রাই, রানি মুখোপাধ্যায় কিংবা সুস্মিতা সেনের মতো অভিনেত্রীরা নিজেদের আসন পাকা করছেন, ঠিক সেই সময়েই ‘সির্ফ তুম’ ছবি দিয়ে বাজিমাত করেন প্রিয়া। এই ছবির সাফল্য রাতারাতি তাঁকে জনপ্রিয়তার শিখরে নিয়ে যায়। কিন্তু সাফল্যের সেই ধারা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ইন্ডাস্ট্রির তীব্র প্রতিযোগিতার মাঝে বড় বড় প্রস্তাব পেতে তাঁকে হিমশিম খেতে হতো। এক পর্যায়ে তিনি অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।
তবে সেই দুঃসময়েই আসে বড় ব্রেক। মনসুর খানের ব্লকবাস্টার ছবি ‘জোশ’-এ শাহরুখ খানের বিপরীতে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। সেই ছবিতে শাহরুখকে চড় মারার দৃশ্যটি আজও সিনেপ্রেমীদের স্মৃতিতে টাটকা। তবে এই দৃশ্যটি শ্যুট করতে গিয়ে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছিলেন প্রিয়া। কিং খানকে চড় মারতে বারবার দ্বিধা করছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত দৃশ্যটি এতই নিখুঁত হয় যে, পরিচালক আবেগপ্রবণ হয়ে ‘কাট’ বলতেই ভুলে গিয়েছিলেন।
কেরিয়ারে ‘জোশ’-এর মতো বড় ছবি থাকা সত্ত্বেও ২০০৬ সালের পর থেকে বলিউড থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন প্রিয়া। তারপর থেকে তাঁকে আর রুপোলি পর্দায় দেখা যায়নি। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁর কোনো অস্তিত্ব নেই, যা তাঁকে নিয়ে রহস্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কান পাতলে শোনা যায়, তিনি নাকি বিয়ে করে ডেনমার্কে থিতু হয়েছেন, তবে এই খবরের কোনো সত্যতা মেলেনি। ২০১৬ সালে প্যারিসে এক অনুরাগীর সঙ্গে তোলা একটি ছবিই এখন তাঁর শেষ প্রকাশ্য উপস্থিতি। একসময়ের সম্ভাবনাময় এই অভিনেত্রী আজ প্রচারের আলো থেকে বহুদূরে। তবুও ‘সির্ফ তুম’ কিংবা ‘জোশ’-এর নস্ট্যালজিয়ায় আজও প্রিয়া গিল বেঁচে আছেন তাঁর অনুরাগীদের মনে।





