মহানায়ক আজও অদ্বিতীয়! উত্তম কুমারের ৪৬তম প্রয়াণবার্ষিকীতে দুস্থ শিল্পীদের পাশে দাঁড়াতে নন্দন চত্বরে মেগা আয়োজন!

আজ মহানায়ক উত্তম কুমারের ৪৬তম প্রয়াণবার্ষিকী। প্রতিবছরের মতো এ বছরও তাঁর নিজস্ব শহর কলকাতা তাঁকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে নানা বর্ণময় উপায়ে। তিনি সশরীরে আমাদের মধ্যে উপস্থিত না থেকেও আজ ফের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন বহু দুস্থ ও অসহায় শিল্পীর। মহানায়কের এই প্রয়াণ দিবসকে কেন্দ্র করে ‘শিল্পী সংসদ’-এর উদ্যোগে আজ থেকে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নন্দন-১ প্রেক্ষাগৃহে শুরু হতে চলেছে দুই সপ্তাহব্যাপী জমজমাট ‘উত্তম চলচ্চিত্র উৎসব’। মূলত দুঃস্থ ও সংকটে থাকা শিল্পীদের আর্থিক সহায়তার মহান উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই উৎসবের শুভ সূচনা হবে আজ বিকেল ৩টের সময়। উদ্বোধনী এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, প্রবীণ ও বিশিষ্ট অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায় এবং শকুন্তলা বড়ুয়া। এছাড়াও এই আয়োজনে স্বমহিমায় উপস্থিত থাকবেন শিল্পী সংসদের সভাপতি ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত সহ সংগঠনের অন্যান্য বিশিষ্ট সদস্যবৃন্দ।
শিল্পী সংসদের পক্ষ থেকে সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয়েছে যে, মহানায়ক উত্তম কুমারের সুমহান স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং একই সঙ্গে রাজ্যের দুঃস্থ শিল্পীদের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই দুই সপ্তাহব্যাপী বিশেষ চলচ্চিত্র উৎসবের রূপায়ন করা হয়েছে। আগামী চোদ্দো দিন ধরে মহানায়কের জনপ্রিয় ও কালজয়ী সমস্ত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি তাঁর অমূল্য অবদানকে স্মরণ করা হবে নানা সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। এদিন সকালে প্রথমে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে মহানায়কের আবক্ষ মূর্তি ও স্মারকফলকে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানাবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর তাঁর ভবানীপুরের পৈতৃক বাড়িতে পৌঁছে যাওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। সেখান থেকেই সরাসরি নন্দনে আয়োজিত শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর।
প্রসঙ্গত, শিল্পী সংসদের সম্পাদক সাধন বাগচী মহানায়কের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অতীতে ইটিভি ভারতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেছিলেন, “যতদিন এই চলচ্চিত্র শিল্প বেঁচে থাকবে, ততদিন উত্তম কুমার মানুষের মনে বেঁচে থাকবেন। মানুষের হৃদয়ে তিনি এক চিরকালীন জীবন্ত মূর্তি। আজকালকার অনেক সেলিব্রিটি প্রেস-মিডিয়া ডেকে নিয়ে গিয়ে ঢাক পিটিয়ে দান-ধ্যান করেন। অথচ মহানায়ক সমস্ত দান করতেন সম্পূর্ণ গোপনে। কাউকে সাহায্য করার জন্য খামে করে টাকা দিয়ে বলতেন, বাড়ি গিয়ে খাম খুলবে। আর যদি এই কথা কাউকে বল, তবে তোমার কাজ এখানে চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।”
তিনি আরও স্মৃতি রোমন্থন করে বলেছিলেন, “‘যমালয়ে জীবন্ত মানুষ’ ছবির এক অভিনেতার মেয়ের বিয়ের জন্য মহানায়ক পাঁচ হাজার টাকা দান করেছিলেন। অথচ ওই অভিনেতার ঠিকঠাক প্রয়োজন ছিল মাত্র ২,০০০ টাকা। কিন্তু দাদা খামের ভেতরে ৫,০০০ টাকা ভরে দিয়েছিলেন। এমন মহান মনের মানুষ আর দ্বিতীয়টি আসবেন না। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি বুদ্ধিজীবীর ওঁকে আদর্শ মেনে চলা উচিত। তবেই আমাদের দেশ তথা পশ্চিমবঙ্গ প্রকৃত অর্থে রক্ষা পাবে।”
আজ শিল্পী সংসদের ঐকান্তিক উদ্যোগেই বিকেল ৫টায় রবীন্দ্র সদনে প্রতি বছরের মতো এ বছরও মঞ্চস্থ হতে চলেছে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—‘গানে-কথায় শিল্পী সংসদের শ্রদ্ধাঞ্জলি’। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য যেমন মহানায়ককে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা, তেমনই অসহায় ও দুঃস্থ শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর সামাজিক বার্তাটি জোরালোভাবে তুলে ধরা। আজকের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে বাংলা চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতের একাধিক নক্ষত্রতুলনা শিল্পীরা অংশ নিচ্ছেন। গান, স্মৃতিচারণ এবং মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হবে মহানায়কের বর্ণময় জীবন ও কর্মের নানা দিক। আজকের এই আয়োজনে স্বাগতলক্ষ্মী দাশগুপ্ত, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, শ্রীকান্ত আচার্য, মাধবী মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রাণী সেন, শেখর মিত্র ও চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তীর মতো বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। আয়োজকদের সর্বসম্মত দাবি, এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান নিছকই উত্তম কুমারের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন নয়, বরং সমগ্র শিল্পী সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায় দুঃস্থ শিল্পীদের কল্যাণে সাহায্যের বার্তাটিও সফলভাবে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।