ডুসুর ভরাডুবিতে ক্ষুব্ধ রাহুল! কানহাইয়া কুমারকে ডেকে তলব, কোন বড় ভুলে হাতছাড়া হলো দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়?

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ বা ডুসু (DUSU) নির্বাচন কংগ্রেসের কাছে কেবল একটি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন ছিল না; বরং তরুণ ভোটারদের মাঝে দলের সাংগঠনিক শক্তি এবং প্রভাব যাচাইয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্নিপরীক্ষা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, দলের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই (NSUI) ডুসুর চার সদস্যের কেন্দ্রীয় প্যানেলে একটি আসনেও জয়লাভ করতে পারেনি। এই শোচনীয় পরাজয়ের এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পার হওয়ার পর এবার নড়েচড়ে বসেছেন কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের ব্যর্থতার আসল কারণ খুঁজতে এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার জন্য সোমবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এনএসইউআই-এর দায়িত্বে থাকা কানহাইয়া কুমার এবং সংগঠনের জাতীয় সভাপতি বিনোদ জাখরকে তলব করে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালও।
সূত্রের খবর, সভাপতি পদে জয়ের অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত কেন এমন বিপর্যয় ঘটল, তা নিয়ে কানহাইয়া কুমার ও বিনোদ জাখরের কাছে কৈফিয়ত চেয়েছেন রাহুল গান্ধী। বৈঠকে রাহুল সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “আমরা যখন সভাপতি পদে জয়ের এত কাছাকাছি পৌঁছেছিলাম, তখন শেষ মুহূর্তে কোথায় ভুল হলো?” প্রাথমিক তথ্যে প্রকাশ, নির্বাচনের সামগ্রিক কৌশল, প্রার্থী নির্বাচন এবং প্রচারের পদ্ধতি নিয়ে রাহুল গান্ধী এই দুই নেতার ওপর অত্যন্ত অসন্তুষ্ট। কে সি বেণুগোপালও কানহাইয়া কুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানান যে, টিকিট বিতরণের সময় যেহেতু কানহাইয়া নিজেই প্রার্থীদের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তাই প্রত্যাশার চেয়ে ভোটের ফল এতটা হতাশাজনক কেন হলো, তার সঠিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
এই পুরো বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন দীপাংশু শোকিন। এনএসইউআই-এর প্রাক্তন এই সদস্য দলের টিকিট না পেয়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে ডুসুর সহ-সভাপতি পদে লড়ে দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে নেন। ২০২৩ সাল থেকেই সক্রিয় ছাত্র রাজনীতিতে থাকা শোকিনকে কেন বঞ্চিত করা হলো, সে বিষয়ে রাহুল গান্ধী সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চান। কানহাইয়া ও বিনোদ জাখর দাবি করেন যে শোকিনের শর্তগুলি অযৌক্তিক ছিল, তবে যেভাবে পুরো পরিস্থিতি পরিচালনা করা হয়েছে তাতে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মোটেও সন্তুষ্ট নয়। যদিও কংগ্রেস নেতা অমিতাভ দুবে দাবি করেছেন যে শোকিনকে সভাপতি পদের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
ডুসুর এই ফলাফল কংগ্রেসের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। যেখানে আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন এবিভিপি (ABVP) সভাপতি, সম্পাদক ও যুগ্ম-সম্পাদক পদ দখল করেছে এবং সহ-সভাপতির আসনে নির্দল প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, সেখানে এনএসইউআই পুরোপুরি শূন্যহাতে ফিরেছে। বিশেষ করে রাহুল গান্ধীর দেশজুড়ে চলা ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ বা জেন-জি প্রজন্মের রাজনৈতিক সক্রিয়তা বাড়ানোর নানা উদ্যোগের মাঝেই এই পরাজয় দলের অন্দরে বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলেছে। তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে দলের এই বিচ্ছিন্নতা কেন ঘটল, তা নিয়ে এখন জোরদার অভ্যন্তরীণ মন্থন শুরু হয়েছে।