কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ—ক্ষোভের আগুনে পুড়ছে সিনেমা হলের অন্দরমহল। ভালো বাংলা ছবির অভাবে লোকসানের মুখে দাঁড়িয়ে একের পর এক হল মালিক দরজা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এই সংকট কাটাতে বুধবার ইম্পা হাউসে (IMPA) এক জরুরি বৈঠকে বসেন ইম্পা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত এবং ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস।
বৈঠকে হল মালিকদের অভিযোগ, বড় প্রযোজকরা শুধুমাত্র উৎসবের মরশুমেই (যেমন পুজো বা ইদ) তাদের সব বড় ছবি মুক্তি দিচ্ছেন। ফলে বছরের বাকি সময়টা হলগুলো ‘খাদ্য’ পায় না। একই দিনে ৩-৪টি বড় ছবি রিলিজ হওয়ায় দর্শক ভাগ হয়ে যাচ্ছে, আর বাকি ৫২ সপ্তাহের বেশিরভাগ সময় হল ফাঁকা থাকছে। এর ফলে বাধ্য হয়ে মালিকরা হিন্দি ছবির দিকে ঝুঁকলে আবার ডিস্ট্রিবিউটারদের নানা শর্তের মুখে পড়তে হচ্ছে। রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী বাংলা ছবিকে প্রাইম টাইম দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, ভালো কন্টেন্টের অভাবে সেই শো-ও খালি যাচ্ছে।
বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছেন প্রযোজক রানা সরকার। তিনি সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন, হল বন্ধ রাখার পিছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। এর জবাবে পিয়া সেনগুপ্ত তীব্র ধিক্কার জানিয়ে বলেন, “পেটে খিদে থাকলে কেউ রাজনীতি করে না।” নামী প্রযোজকদের অনুপস্থিতি এবং রানা সরকারের পাল্টা চ্যালেঞ্জে এখন টলিউডের অন্দরে সংঘাত চরমে।