চাল রফতানির দিন কি তবে শেষ? নতুন এই গোপন ফর্মুলায় কোটিপতি হওয়ার সুযোগ ব্যবসায়ীদের!

কেবল কাঁচা চাল রফতানি করেই ক্ষান্ত থাকা নয়, বরং চাল থেকে তৈরি বহুমুখী প্রক্রিয়াজাত পণ্য ভারতের রাইস ইন্ডাস্ট্রিতে এক নতুন অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটাতে চলেছে। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান রাইস এক্সপোর্টার্স ফেডারেশন (IREF) এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও তথ্যবহুল রিপোর্টে জানিয়েছে যে, রাইস ব্র্যান অয়েল, রেডি-টু-ইট খাবার, উচ্চমানের চালের প্রোটিন এবং চালের তুষ থেকে তৈরি শিল্পজাত সামগ্রী ব্যবসায়ীদের মুনাফার অঙ্ক বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। আগামী ২০২৬ সালের ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর নয়াদিল্লির বিখ্যাত ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত হতে চলা ‘ভারত ইন্টারন্যাশনাল রাইস কনফারেন্স’ (BIRC 2026)-এর মঞ্চে IREF এবং EY-এর এই যৌথ রিপোর্টটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই বাণিজ্য মহলে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

সংস্থার বাসমতি চালের প্রেসিডেন্ট রাজীব সেটিয়া এক বিশেষ ঘোষণায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বর্তমান প্রতিযোগিতার বাজারে শুধুমাত্র রফতানির ওপর নির্ভর করে বসে না থেকে প্রতি টন চাল থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা ঘরে তুলতে হবে। এর জন্য চালকল মালিক, রফতানিকারক ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ উপাদান প্রস্তুতকারকদের সুনির্দিষ্ট নতুন কৌশল নিয়ে এগোতে হবে। গ্র্যান্ড ভিউ রিসার্চের পরিসংখ্যান তুলে ধরে রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে রাইস নুডলস এবং তাৎক্ষণিক উপাদেয় খাবারের বাজার ২০২৪ সালে ৬.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছিল, যা ২০৩০ সালের মধ্যে এক লাফে ১১ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকবে। এই বিশাল বাজারের প্রায় ৬৩.৪ শতাংশই এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকায় ভারতীয় ব্যবসায়ীদের জন্য এটি এক সুবর্ণ সুযোগ।

পাশাপাশি, চালকল মালিকদের কাছে ‘রাইস ব্র্যান অয়েল’ বাড়তি আয়ের একটি অন্যতম বড় চাবিকাঠি। ২০২৩ সালে এই বিশ্ববাজার ৪.৮ বিলিয়ন ডলারের হলেও ২০৩০ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৬.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এদিকে, নীতি আয়োগের তথ্য অনুযায়ী, ভারতেই প্রায় ১.৯ মিলিয়ন টন রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে এখনও ৮.৫ লাখ টন অব্যবহৃত রয়ে গেছে। সম্মেলনে রাইস প্রোটিন, চালের গুঁড়ো এবং ফাংশনাল স্টার্চের মতো বিশেষ উপাদানগুলির ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হবে, যেগুলির বিশ্ববাজার ২০২৩ সালের ১৬৮.৫ মিলিয়ন ডলার থেকে ৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০৩০ সালে ২৮১.৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, চালের উপজাত বর্জ্য বা তুষ থেকেও শিল্প ক্ষেত্রে ব্যাপক বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। চালের তুষের ছাই থেকে তৈরি সিলিকার বাজার ২০২৫ সালের ৬৪০.৬ মিলিয়ন ডলার থেকে লাফিয়ে বেড়ে ২০৩৩ সালে প্রায় ১.৪১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। এমনকি বিখ্যাত টায়ার নির্মাতা সংস্থা গুডইয়ার (Goodyear) ঘোষণা করেছে যে তারা ইউরোপের ট্রাক-রেসিং টায়ারে এই তুষজাত সিলিকা ব্যবহার করবে। সম্মেলনে ‘বিয়ন্ড রাইস: দ্য নেক্সট বিলিয়ন-ডলার অপরচুনিটি’ শীর্ষক বিশেষ সেশনে প্রিমিয়াম চাল, ইথানল, বায়োএনার্জি এবং সাকে (Sake) তৈরির খুঁটিনাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সামগ্রিকভাবে, এই কনফারেন্স ভারতীয় চাল ব্যবসায়ীদের বিশ্ববাজারে নিজেদের আধিপত্য আরও সুদৃঢ় করতে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।