চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি যখন অরিজিৎ সিং ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি আর কোনো নতুন প্লেব্যাক কাজ নেবেন না, তখন ভক্তদের মনে বিষণ্ণতা নেমে এসেছিল। কিন্তু প্লেব্যাক ছাড়া মানেই যে গান ছাড়া নয়, তার জ্যান্ত প্রমাণ দিল গত রবিবার। কলকাতার মঞ্চে হঠাৎ আবির্ভূত হয়ে শহরবাসীকে এক মায়াবী রাত উপহার দিলেন জিয়াগঞ্জের ভূমিপুত্র। প্রখ্যাত সেতার বাদক অনুষ্কা শঙ্করের কনসার্টে অতিথি শিল্পী হিসেবে অরিজিতের উপস্থিতি ছিল রবিবারের সবথেকে বড় চমক।
মঞ্চে অরিজিতের নাম ঘোষণার সাথে সাথেই দর্শকদের গগনভেদী চিৎকারে ফেটে পড়ে অডিটোরিয়াম। মঞ্চে উঠে বিনম্র অরিজিৎ স্বীকার করেন, “এই মুহূর্তে আমি খুব নার্ভাস… আমাকে এখানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ।” এরপর শুরু হয় সেই ঐতিহাসিক যুগলবন্দী। অনুষ্কা শঙ্কর ও তবলাবাদক বিক্রম ঘোষের সাথে অরিজিৎ পরিবেশন করেন প্রয়াত পণ্ডিত রবি শঙ্করের সুরে বাঁধা কালজয়ী গান ‘মায়া ভরা রাতি’। লক্ষ্মী শঙ্করের গাওয়া এই বাংলা গানটি অরিজিতের কণ্ঠে যেন এক নতুন প্রাণ পায়। শুধু তাই নয়, অরিজিৎ জানিয়েছেন যে অনুষ্কার বাড়িতে বসে তাঁরা দুজনে একটি নতুন গানও কম্পোজ করেছেন, যা ভবিষ্যতে প্রকাশিত হবে।
সঙ্গীতের এই আসর ছাড়াও রবিবার অরিজিৎকে দেখা গেল এক অন্য রূপে। প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী লোপামুদ্রা মিত্রর ‘সহজ পরব’-এর অনুষ্ঠানে সস্ত্রীক হাজির হন তিনি। ঘটনাচক্রে সেদিন ছিল লোপামুদ্রার জন্মদিন। অরিজিৎ নিজের হাতে তাঁকে পায়েস খাইয়ে এবং পুষ্পস্তবক দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। অভিভূত লোপামুদ্রা সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “কোয়েল ও অরিজিৎ আমাকে জীবনের সেরা উপহার দিল। কৃতজ্ঞতা শব্দটিও খুব ছোট মনে হচ্ছে।”
অরিজিতের প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত কোনো হঠকারিতা ছিল না, বরং তা ছিল দীর্ঘ ভাবনার ফসল। তিনি চেয়েছিলেন স্বাধীনভাবে নিজের মনের মতো গান তৈরি করতে। রবিবারের অনুষ্ঠানটি যেন সেই নতুন যাত্রারই সূচনা। ভক্তদের দাবি, রুপোলি পর্দার জন্য না গাইলেও, অরিজিতের সুর এভাবেই স্বাধীন মঞ্চে চিরকাল বেঁচে থাকুক।