প্রেমিকা বিদায় নিতেই কান্নায় ভাসলেন রাজবীর! কিন্তু বাইরে ঘটে চলা কোন ঘটনা জানলে আকাশ থেকে পড়বেন?

রবিবারের ‘দাদার দরবার’-এ ঘটে গিয়েছে এক অভাবনীয় এবং নাটকীয় ঘটনা, যার জেরে এক মুহূর্তে পালটে গেছে বিগ বস বাংলার অন্দরের সমস্ত সমীকরণ। ভেঙে গেছে দর্শকদের অত্যন্ত প্রিয় ‘রাজনন্দিনী’ জুটি! শোয়ের সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ঘোষণায় যখন বিগ বসের ঘর থেকে অফিশিয়ালি বিদায় নিচ্ছেন নন্দিনী দত্ত, তখন প্রেমিকা চোখের আড়াল হতেই হাউহাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাজবীর দে। তবে নিয়তির কী নির্মম পরিহাস, নন্দিনীকে বাস্তবে বাড়ি পাঠানো হয়নি, বরং তাঁকে পাঠানো হয়েছে একটি সিক্রেট রুমে। সেখান থেকেই তিনি এখন অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে বাকি প্রতিযোগীদের প্রতিটি গতিবিধি ও কৌশল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে এই পুরো ঘটনার আসল টুইস্ট লুকিয়ে রয়েছে ঘরের বাইরের রিয়েল ওয়ার্ল্ডে!
বিগ বসের ঘরের অন্দরে রাজবীর এবং নন্দিনীর অনস্ক্রিন প্রেম ও রোম্যান্স নিয়ে চর্চার শেষ ছিল না। তাঁদের অনবদ্য রসায়ন প্রথম থেকেই দর্শকদের নজর কেড়েছিল। রবিবার যখন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এলিমিনেশনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন, সেই আকস্মিক ধাক্কা কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি আবেগপ্রবণ রাজবীর। তিনি বারবার সঞ্চালক ও বিগ বসকে অনুরোধ করতে থাকেন, যাতে যেকোনো উপায়ে নন্দিনীকে ঘরের ভেতরে রেখে দেওয়া হয়। কিন্তু নিয়মের বেড়াজাল ও দর্শকের রায় তো মানতেই হবে। এই বাস্তব সত্য মেনে নেওয়ার পরই কান্নায় ভেঙে পড়েন রাজবীর। ঘর থেকে বেরোনোর ঠিক প্রাকমুহূর্তে রাজবীরকে একটি বিশেষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নন্দিনী। তিনি কথা দিয়েছিলেন, বাইরে গিয়ে প্রেমিককে শো জেতানোর জন্য বিপুল পরিমাণে ভোট জোগাড় করবেন তিনি। নন্দিনীর কথা শুনে তখন আরও বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন রাজবীর। কাঁদতে কাঁদতে নন্দিনীকে কোলে তুলে সোজা মূল গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসেন তিনি। লাখো ক্যামেরার সামনেই নিজের জ্যাকেট চাপা দিয়ে প্রেমিকাকে গভীর চুম্বনও করেন রাজবীর। তাঁদের এই চরম ঘনিষ্ঠতা ও নিখাদ ভালোবাসা রবিবারের এপিসোডে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তবে আসল রহস্য এখানেই দানা বেঁধেছে। প্রশ্ন উঠছে, সিক্রেট রুমে সম্পূর্ণ বন্দি থাকায় নন্দিনীর হাতে তো এই মুহূর্তে কোনো মোবাইল ফোন পৌঁছানোর কথাই নয়। তাহলে প্রেমিকের কাছে দেওয়া সেই কথা তিনি রাখবেন কীভাবে? ঠিক এই সংকটজনক মুহূর্তেই ত্রাতা হিসেবে আসরে নেমেছেন খোদ নন্দিনীর বাবা-মা! মেয়ের মুখে শোনা সেই প্রতিশ্রতি তারা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। নন্দিনীর নিজস্ব মোবাইল ফোন সহ আরও একাধিক ফোন থেকে তাঁরা একটানা রাজবীরকে ঢেলে ভোট দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজবীরের সমর্থনে ভোট চাওয়ার সেই ভিডিও ইতিমধ্যেই তারা প্রকাশ্যে ভাগ করে নিয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগে খাবার নষ্ট করার গুরুতর অপরাধে বিগ বস নিজে শাস্তি হিসেবে রাজবীরকে টানা দু’সপ্তাহের জন্য সরাসরি নমিনেট করে রেখেছেন। পাশাপাশি, চলতি সপ্তাহে ঘরের বাকি সদস্যদের বিপুল ভোটে নমিনেটেড হয়েছেন রণিতা, তনুশ্রী এবং সৃজলাও। ফলে রাজবীরের মাথার ওপর এমনিতেই শো থেকে বিদায়ের মারাত্মক খাঁড়া ঝুলছে।
এমনি এক চরম কঠিন ও অনিশ্চিত সময়ে রাজবীরের সুরক্ষার জন্য আক্ষরিক অর্থেই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে নন্দিনীর পরিবার। অন্যদিকে, সিক্রেট রুমে বসে সম্পূর্ণ আরামদায়ক পরিবেশে গোটা খেলাটাই এখন চুটিয়ে উপভোগ করছেন খোদ নন্দিনী দত্ত। নিয়ম মেনে নীল আলো জ্বললে খাবার সংগ্রহ করছেন, আর সবুজ আলো জ্বললে বিগ বসের নির্দেশ পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি খালি চোখে বসে দেখছেন, তাঁর হঠাৎ অনুপস্থিতিতে ঘরের অন্দরে কীভাবে ক্ষমতার সমীকরণ ও পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ওদিকে রাজবীর সারাক্ষণ বুঁদ হয়ে আছেন এই ভেবে যে, তাঁর প্রেমিকা হয়তো বাইরে গিয়ে তাঁরই জয়ের জন্য দিনরাত এক করে ফেলছেন। তিনি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে, নন্দিনী আদতে ঘরের বাইরে যানইনি, বরং তিনি লুকিয়ে আছেন খুব কাছেই! আর বাইরে তাঁর হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন খোদ নন্দিনীর বাবা-মা। সব মিলিয়ে বিগ বস বাংলার এই টানটান লড়াই এখন চরম উত্তেজক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন দেখার, গোপন সিক্রেট রুম থেকে কবে রাজবীরের কাছে সশরীরে ফিরে আসেন নন্দিনী, আর তাঁদের এই নাটকীয় প্রেমের গল্প আগামী দিনে ঠিক কোন অভাবনীয় মোড় নেয়।