গভীর সমুদ্রে ৪৮ ঘণ্টার হাই-ভোল্টেজ অ্যাকশন! সোমালি জলদস্যুদের হাত থেকে কীভাবে জাহাজ ছিনিয়ে আনল ভারতীয় নৌসেনা?

গভীর সমুদ্রে টানা ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলল এক অবিশ্বাস্য ও রুদ্ধশ্বাস সামরিক অভিযান। সোমালিয়ার জলদস্যুদের সশস্ত্র কবল থেকে অপহৃত বাণিজ্যিক জাহাজ ‘আজিনি’ (Azini)-কে সফলভাবে উদ্ধার করল ভারতীয় নৌসেনা। মুম্বই থেকে প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটার দূরে আরব সাগরের বুকে এই বিশেষ গোপন অভিযানটি চালানো হয়। সাহসিকতার পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে জাহাজ উদ্ধারের পাশাপাশি ভেতরে থাকা ২০ জন ক্রু সদস্যকেও সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদে বের করে এনেছেন নৌসেনার বীর জওয়ানরা। এই রক্তঝরানো অপারেশনে ভারতীয় বাহিনীর কোনো হতাহতের খবর নেই।
নৌসেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মাসের শুরুর দিকে সোমালিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূল সংলগ্ন এলাকা থেকে একদল ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সোমালি জলদস্যু এই মাছ ধরার জাহাজটিকে হাইজ্যাক করেছিল। ঘটনার পর থেকেই ভারতীয় নৌসেনার নজরদারি ব্যবস্থা জাহাজটির প্রতি মুহূর্তের গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছিল। সেনার কাছে খবর ছিল, জলদস্যুরা ‘আজিনি’কে একটি ‘মাদার শিপ’ বা মূল ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অন্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলির ওপর আরও বড়সর আক্রমণের ছক কষছে। ফলে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা রক্ষায় এই জাহাজটি উদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল।
পরিস্থিতির চরম গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত অ্যাকশনে নামে ভারতীয় নৌসেনা। এই নিখুঁত অপারেশনে নামানো হয় নৌসেনার পরাক্রমশালী যুদ্ধজাহাজ আইএনএস কলকাতা (INS Kolkata), দূরপাল্লার সামুদ্রিক নজরদারি বিমান পি৮আই (P-8I) এবং হাই-টেক ‘সি গার্ডিয়ান’ ড্রোন। আধুনিক এই নজরদারি প্রযুক্তির সাহায্যে প্রথমে জাহাজটির সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। এরপর চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে জলদস্যুদের পালানোর সমস্ত সম্ভাব্য পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার মেগা স্ট্র্যাটেজি নেওয়া হয়।
অভিযানের চূড়ান্ত ও সবথেকে রোমাঞ্চকর পর্বে ময়দানে নামানো হয় ভারতীয় নৌসেনার ঘাতক ও স্পেশাল কমান্ডো বাহিনী ‘মার্কোস’ (MARCOS)-কে। ভারতীয় বায়ুসেনার সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমান থেকে মাঝ আকাশে প্যারাশুটের সাহায্যে সমুদ্রের বুকে নামেন এই দুর্ধর্ষ কমান্ডোরা। এরপর জলের ওপর দিয়ে দ্রুত ও সুপরিকল্পিত হামলা চালিয়ে মুহূর্তের মধ্যে সোমালি জলদস্যুদের প্রতিহত করেন তাঁরা। পুরো জাহাজটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ২০ জন ক্রুকে নিরাপদে মুক্ত করা হয়। নৌসেনার মতে, এই সফল অপারেশন ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর উন্নত সামরিক প্রস্তুতি, নিখুঁত কৌশল ও যৌথ সমন্বয়ের এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত।