‘দেবা শ্রী গণেশা’ থেকে ‘সত্য’-র ক্লাইম্যাক্স! হিন্দি সিনেমার পর্দায় গণেশ চতুর্থী কীভাবে বদলে দিল গল্প বলার ধারা?

মুম্বইয়ের রাজপথ থেকে সেলুলয়েডের রুপালি পর্দা—গণেশ চতুর্থী মানেই এক অবিস্মরণীয় উৎসবের ঢেউ, যেখানে ঢাক-ঢোল, আরতি, প্যান্ডেল আর ‘গণপতি বাপ্পা মোরিয়া’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। তবে বলিউডের বেশ কিছু মাস্টারপিস ছবিতে এই উৎসব নিছক উদযাপনের দৃশ্য হয়ে থাকেনি, বরং তা ছবির মূল কাহিনীর সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে গেছে যে সেই দৃশ্য বাদ দিলে গল্পের আবেগ সম্পূর্ণ অপূর্ণ থেকে যায়। রাম গোপাল বার্মার কালজয়ী ছবি ‘সত্য’-এর কথাই ধরা যাক, যেখানে মুম্বইয়ের আলোর রোশনাই ও গণেশোৎসবের তুমুল ভিড়ের মাঝেই ঘটেছিল ছবির সবচেয়ে অন্ধকার ও রক্তাক্ত ক্লাইম্যাক্স। সমুদ্রসৈকতে উৎসবের উন্মাদনার মধ্যে সত্যর হাতে ভাউয়ের খুন এবং পালানোর সেই মরিয়া চেষ্টা উৎসবের আনন্দের মাঝে এক মর্মান্তিক আবহ তৈরি করেছিল।
একইভাবে মহেশ মঞ্জরেকরের ‘বাস্তব: দ্য রিয়্যালিটি’-তে সঞ্জয় দত্তের অপরাধজগতের করুণ পরিণতি এবং জীবনের অন্তর্দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করে তুলেছিল গণেশ পুজোর আবহ। ‘শেন্দুর লাল চঢ়ায়ো’ গানটি আজীবন বলিউডের অন্যতম সেরা ভক্তিগীতির মর্যাদা পেয়ে আসছে। অন্যদিকে, হৃতিক রোশনের ‘অগ্নিপথ’-এর ‘দেবা শ্রী গণেশা’ বা ১৯৯০-এর মূল ছবিতে গণেশ চতুর্থী কেবল একটি উৎসব ছিল না, বরং তা বিজয় ও প্রতিশোধের স্পৃহাকে আরও বিস্ফোরক করে তুলেছিল। ফারহান আখতারের ‘ডন’-এ গণেশোৎসবের উন্মাদনা এবং ‘মৌরিয়া রে’ গানের তালে শাহরুখ খানের দৃশ্য দর্শকের মনে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে, যেখানে উৎসবের ভিড় গল্প বলার এক নিখুঁত কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর ‘বাজিরাও মাস্তানি’ ছবিতে গণেশোৎসব পেয়েছিল এক রাজকীয় ও বিশাল রূপ। ‘গজাননা’ গানের বর্ণাঢ্য আয়োজন এবং বিশাল সেটের মধ্যে পেশোয়া বাজিরাওয়ের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত টানাপোড়েন এক নতুন মাত্রা পেয়েছিল। অন্যদিকে, ‘এবিসিডি’ বা ‘বানজো’ এবং ‘জুড়ওয়া ২’-এর মতো বাণিজ্য সফল ছবিগুলিতে গণেশ বন্দনা তারুণ্য, দলগত লড়াই এবং মঞ্চের উদ্দাম উদযাপনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে, বলিউডের এসব ছবির মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে মুম্বইয়ের গণেশোৎসব কেবল ভক্তির প্রকাশ নয়, বরং তা সেলুলয়েডের পর্দায় কখনও আনন্দের, কখনও প্রেমের, আবার কখনও প্রতিশোধ ও মৃত্যুর সাক্ষী হয়ে হিন্দি সিনেমার নিজস্ব ভিজ্যুয়াল সংস্কৃতির এক অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে।