‘তুমি গৌরবকে কতটা চেনো?’ ১০ বছরের সংসার ভাঙার পরেই শ্রেয়ার ওপর কেন ফুঁসে উঠলেন অভিনেত্রী আকাঙ্খা?

জনপ্রিয় অভিনেতা গৌরব খান্নার সঙ্গে দীর্ঘ ১০ বছরের দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদ ঘোষণা করার পর থেকেই অভিনেত্রী আকাঙ্খা চামোলার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চারদিকে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। রিয়েলিটি শো ‘লক আপ ২’-এর ঘরের অন্দরে এবং বাইরে তাকে নিয়ে নানামুখী প্রশ্নের ঝড় উঠেছে। আর এই পরিস্থিতির মধ্যেই রিয়েলিটি শো-এর ঘরে তীব্র বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন আকাঙ্খা ও সহ-প্রতিযোগী শ্রেয়া কালরা। বিচ্ছেদ সংক্রান্ত ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে শ্রেয়ার মন্তব্য এবং আচরণের পরেই সম্পূর্ণ ক্ষোভ উগরে দেন অভিনেত্রী।

আকাঙ্খার অভিযোগ, শ্রেয়া তাদের কাউকেই ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না এবং তাদের সম্পর্কের সুদীর্ঘ সমীকরণ সম্পর্কেও তাঁর কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। অথচ তা সত্ত্বেও অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে জনসমক্ষে বিচারমূলক ও নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন তিনি। রিয়েলিটি শো-এর ভেতরে উত্তপ্ত তর্কের সময় আকাঙ্খা সরাসরি শ্রেয়াকে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি গৌরবকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে ‘গৌরব জি’ বলে সম্বোধন করছেন এবং অন্যদিকে আকাঙ্খাকে খলনায়িকা হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। অভিনেত্রীর কড়া প্রশ্ন ছিল, শ্রেয়া আসলে গৌরবকে কতটা চেনেন, বাইরে কি তাঁদের সত্যিই কোনো পরিচয় আছে বা তিনি কি তাঁর কোনো বন্ধু? কেনই বা আকাঙ্খা নিজে তাঁর কাছে এমন আক্রমণাত্মক বা নেতিবাচক পাত্রী হিসেবে প্রতিপন্ন হচ্ছেন?

ঘটনাটি আরও মোড় নেয় যখন আকাঙ্খা অভিযোগ করেন যে, শ্রেয়া নাকি বাইরে বা ভেতরে এমন মন্তব্য করেছেন যে গৌরব ও আকাঙ্খার এই বিচ্ছেদ হওয়াটা তাঁদের জন্য অত্যন্ত ভালো হয়েছে, কারণ গৌরব নাকি আকাঙ্খার যোগ্যই ছিলেন না। শ্রেয়ার এই ধরনের অবমূল্যায়নকারী মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আকাঙ্খা তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন করেন, এই ধরনের মন্তব্য করার অধিকার শ্রেয়াকে আসলে কে দিয়েছে? তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্কের গভীরতা বা টানাপোড়েন সম্পর্কে সামান্যতম ধারণাও না রেখে শ্রেয়া কেন নিরর্থক ওকালতি করে বেড়াচ্ছেন?

যদিও এই অভিযোগের জবাবে শ্রেয়া কালরা সমস্ত দাবি সরাসরি অস্বীকার করেন। তিনি আকাঙ্খাকে অনুরোধ করেন, যেন তিনি অন্য কারোর কথায় বা গুজবে অন্ধের মতো বিশ্বাস না করেন। শ্রেয়া আরও দাবি করেন যে, এই দম্পতির ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে জনসমক্ষে কোনো রকম কুরুচিকর বা অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করার বিন্দুমাত্র উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না এবং তিনি কেবল নিজের অবস্থান ও ভুল বোঝাবুঝি পরিষ্কার করার চেষ্টা করছেন।

কিন্তু আকাঙ্খা এই বিষয়টিকে সহজে ছেড়ে দিতে নারাজ ছিলেন। তিনি জোরালোভাবে জানান, কারোর ভেঙে যাওয়া সাজানো সংসার ও বিচ্ছেদ নিয়ে মন্তব্য করা অত্যন্ত অসংবেদনশীল ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ। আকাঙ্খা পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, যদি তিনি নিজে শ্রেয়ার কোনো প্রাক্তন প্রেমিক বা খোদ শ্রেয়াকে নিয়েই এমন কুমন্তব্য করতেন, তবে তা দেখতে কতটা দৃষ্টিকটু লাগত এবং শ্রেয়ার নিজের কেমন অনুভূতি হতো? তিনি অভিযোগ করেন যে, শ্রেয়া তাঁর খাঁটি আবেগ নিয়ে খেলা করছেন।

বিতর্ক আরও চরমে ওঠে যখন অন্য এক প্রতিযোগী এই আলোচনায় যোগ দেন এবং আকাঙ্খা শ্রেয়ার বিরুদ্ধে নিজের সুবিধামুতো অবস্থান বদলানোর গুরুতর অভিযোগ তোলেন। ক্যামেরার সামনে সবকিছু স্পষ্টভাবে ধরা পড়া সত্ত্বেও দর্শকদের চোখে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখার এই দ্বিচারিতাকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন আকাঙ্খা। শেষ পর্যন্ত শ্রেয়ার সামগ্রিক খেলার কৌশল ও মানসিকতাকে কটাক্ষ করে তিনি এই উত্তপ্ত বিতর্কের সমাপ্তি টানেন। আকাঙ্খা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “আমি আপনাকে তখনই শ্রদ্ধা করব, যদি আপনি মেরুদণ্ড সোজা করে মেনে নেন যে—হ্যাঁ, খেলার প্রয়োজনে যদি আপনাকে ‘ভ্যাম্প’ বা খলনায়িকা হতেও হয়, তবে নির্দ্বিধায় তাই হোন! এতে বরং আপনার প্রতি আমার সম্মান আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে।”