মহেঞ্জোদারো-হরপ্পার মতো খুঁড়লেই দুর্নীতি বেরোচ্ছে! ইডি দফতর থেকে বেরিয়ে কী চাঞ্চল্যকর মন্তব্য মদন মিত্রের?

টানা দু’দিন ধরে ইডি দপ্তরে ম্যারাথন জেরা এবং দফায় দফায় জট কাটিয়ে অবশেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুললেন কামারহাটির সদ্য দলবদল করা বিধায়ক মদন মিত্র। বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও প্রায় আট ঘণ্টা ধরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের মুখোমুখি হন তিনি। দীর্ঘ জেরা শেষে ইডি অফিস থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মদন মিত্র স্পষ্ট ভাষায় উড়িয়ে দেন রাজনৈতিক মহলে প্রচলিত তথাকথিত ‘সেটিং তত্ত্ব’। নিজের চেনা ছন্দে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “সেটিং করে যদি আট ঘণ্টা জেরা চলে, তবে এমন সেটিং না করাই ভালো! ইডি আমার কাছে যা জানতে চেয়েছে, আমি এবং আমার পরিবারের তরফে সমস্ত নথিপত্র দিয়ে সহযোগিতা করেছি। সাফ জানিয়ে দিয়েছি যে এই দুর্নীতির সঙ্গে আমি বা আমার পরিবারের কেউ বিন্দুমাত্র যুক্ত নই।”

তবে এই জেরার মাঝেই তাঁর মুখে শোনা যায় এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর মন্তব্য। সাংবাদিকদের সামনে সরাসরি বিজেপি এবং বর্তমান রাজ্য সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করতে দেখা যায় তাঁকে। মদনের মুখে শোনা যায়, “মানুষ ভালো দল বলে যাকে বেছে নিয়েছে, সেটি হল ভারতীয় জনতা পার্টি, আর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর নাম শুভেন্দু অধিকারী!” সদ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন রাজনৈতিক পথ বেছে নিয়েছেন মদন মিত্র। শিবির বদলের মাত্র পনেরো দিন কাটতে না কাটতেই তাঁর দুই ছেলে ও স্ত্রী ইডি-র তলবে হাজিরা দেন। এরপর গত ২৯ জুলাই খোদ মদন মিত্র প্রথমবার তলবে হাজিরা দেন।

সাংবাদিক বৈঠকে নিজের দলবদল ও পুরনো দল ত্যাগ করার আসল কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মদন মিত্র বলেন, “হ্যাঁ, এখন আমি ঋতব্রতদের শিবিরেই আছি। একসময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের ঘরগুলো আমার কাছে বড্ড ছোট মনে হচ্ছিল, সেখানে ঠিকমতো নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম না।” প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পার প্রাচীন সভ্যতার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য, “এটা কি প্রথম বা শেষ ঘটনা? এটা তো দুর্নীতির একটা দীর্ঘ সিরিজ চলছে। মাটি খুঁড়লেই একের পর এক কেলেঙ্কারি বেরিয়ে আসছে। প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটের মতো কবর খুঁড়ে যদি শুভেন্দু অধিকারী প্রতিদিন এভাবে কয়েকশো কোটি টাকার দুর্নীতি উদ্ধার করতে পারেন, তবে আমি তাঁকে স্যালুট ও অভিনন্দন জানাব।”

অন্যদিকে, বীরভূমের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও টুলু মণ্ডলের প্রসঙ্গ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়েও সুর চড়ান মদন মিত্র। তিনি বলেন, “তাহলে কি এটা প্রমাণিত হচ্ছে না যে সরকার কয়েকটি নির্দিষ্ট জায়গা বা বিশেষ ব্যক্তিদের আড়াল করার চেষ্টা করছে? বীরভূমের তথাকথিত ‘নোবেল’ বিজয়ী বা বড় মাথাদের এখনও ধরা না গেলেও টুলুদের মতো ছোটদের ঠিকই পাকড়াও করা হচ্ছে। তবে বর্তমান রাজ্য সরকার তাদের হানিমুন পিরিয়ডের এই সময়টায় যে ধরনের কড়া পদক্ষেপ করছে, তাতে আমি ব্যক্তিগতভাবে সন্তুষ্ট।” রাজনৈতিক মহলের মতে, ইডি দফতর থেকে বেরিয়ে মদন মিত্রের এই স্বয়ংসম্পূর্ণ ও বিস্ফোরক মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।