কাগজের নোটের যুগ শেষ! পকেটের ছোঁড়া আর ভেজা টাকার ঝামেলা থেকে স্থায়ী মুক্তি আনছে RBI!

আমাদের মানিব্যাগের ভাঁজ করা নোট, বর্ষার দিনে ভিজে যাওয়া টাকা কিংবা সামান্য টানে ছিঁড়ে যাওয়া পুরোনো ১০ টাকার নোটের দীর্ঘদিনের ঝামেলা এবার চিরতরে মিটতে চলেছে। সাধারণ কাগজের দিন শেষ করে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বা আরবিআই এবার দেশের আর্থিক লেনদেনে এক বিপ্লব আনতে চলেছে। কাগজের নোটের পরিবর্তে খুব শীঘ্রই বাজারে আসতে চলেছে সম্পূর্ণ প্লাস্টিক নির্মিত পলিমার ব্যাঙ্কনোট বা Polymer Banknote।

প্লাস্টিকের এই নতুন নোটগুলি সাধারণ কাগজের তৈরি নয়, বরং বিশেষ ধরনের পলিমার দিয়ে তৈরি করা হবে। যা দেখতে কিছুটা স্বচ্ছ প্লাস্টিকের মতো মনে হলেও এর স্থায়িত্ব ও গুণমান অনেক বেশি উন্নত। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ব্রিটেন এবং সিঙ্গাপুরের মতো বিশ্বের ৩০টিরও বেশি উন্নত দেশে এই ধরনের পলিমার নোট অত্যন্ত সফলভাবে প্রচলিত রয়েছে। এবার সেই পথেই হেঁটে ভারতের আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সুরক্ষিত করতে চলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

হঠাৎ কেন এই বড় সিদ্ধান্ত নিল আরবিআই? এর পেছনে মূলত তিনটি বড় কারণ ও কৌশলগত সুবিধা রয়েছে। প্রথম এবং প্রধান কারণটি হলো স্থায়িত্ব। সাধারণ কাগজের নোট অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। পকেটে রাখতে রাখতে ঘাম লাগা, বর্ষার দিনে বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া কিংবা নিয়মিত লেনদেনের জেরে ১ থেকে ২ বছরের মধ্যেই কাগজের নোট ছিঁড়ে যায়। কিন্তু এই প্লাস্টিকের নোটগুলি কাগজের তুলনায় ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি দিন টেকে। যার ফলে আরবিআই-কে বারবার নতুন করে নোট ছাপাতে হবে না এবং সরকারের মুদ্রণ খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

দ্বিতীয় কারণটি হলো উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্লাস্টিকের নোটে অনেক বেশি আধুনিক সিকিউরিটি ফিচার বা সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা সম্ভব। স্বচ্ছ উইন্ডো, হলোগ্রাম, আল্ট্রাভায়োলেট বা ইউভি প্রিন্ট এবং মাইক্রো টেক্সটের মতো উন্নত প্রযুক্তি জালিয়াতদের পক্ষে নকল করা প্রায় অসম্ভব। ফলস্বরূপ, দেশে জালনোটের রমরমা কারবার এক ধাক্কায় অনেকটা কমে যাবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। তৃতীয় কারণটি হলো স্বাস্থ্যগত দিক। প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষের হাত ঘুরে চলা কাগজের নোটে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু বাসা বাঁধে। কিন্তু প্লাস্টিকের নোটের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এগুলি সহজেই সাবান জল দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া সম্ভব, যা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

জানা গিয়েছে, আরবিআই এর আগে ২০১৮ সালে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ৫টি শহরে ১০ টাকার প্লাস্টিকের নোটের ট্রায়াল বা পরীক্ষা চালিয়েছিল এবং সেই রিপোর্ট অত্যন্ত ইতিবাচক ছিল। এবার ধাপে ধাপে দেশের বাজারে ১০, ২০ এবং ৫০ টাকার নোটগুলিকে প্লাস্টিকের রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গ্রামাঞ্চল এবং দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় এই নোটগুলি বেশি পরিমাণে ছাড়া হবে। তবে এখনই ২০০ কিংবা ৫০০ টাকার মতো বড় মূল্যমানের নোট প্লাস্টিকে রূপান্তরিত হচ্ছে না। পরিবেশের কথা ভেবেও এই পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকর, কারণ কম নোট ছাপতে হলে কম গাছ কাটা হবে এবং এই নোটগুলি শতভাগ পুনর্ব্যবহারযোগ্য বা রিসাইকেল করা সম্ভব হবে।