বলিউডের জনপ্রিয় কমেডিয়ান রাজপাল যাদবের হাসিমুখের আড়ালে ঘনিয়ে এল অন্ধকারের ছায়া। কোটি টাকার চেক বাউন্স মামলায় বড়সড় আইনি বিপাকে জড়ালেন অভিনেতা। দিল্লির উচ্চ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বারবার সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ফলে, তাঁকে অবিলম্বে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক বছর আগে, যখন ‘মুরালি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড’ নামক একটি সংস্থা রাজপাল যাদবের বিরুদ্ধে চেক বাউন্স করার অভিযোগে মামলা দায়ের করে। ২০২৪ সালের মে মাসে দিল্লির একটি সেশন আদালত রাজপালকে এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে এবং তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। তবে আইনি লড়াইয়ে সাময়িক স্বস্তি পেয়েছিলেন অভিনেতা। সেই বছরের শেষের দিকে আদালতের একটি উচ্চতর বেঞ্চ তাঁর সাজা স্থগিত করে, কারণ রাজপাল এবং তাঁর আইনজীবীরা আদালতকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তাঁরা বকেয়া টাকা দ্রুত মিটিয়ে দেবেন।
হিসাব অনুযায়ী, রাজপাল যাদবকে মোট ২.৫ কোটি টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। অভিনেতা নিজেই আদালতকে জানিয়েছিলেন যে তিনি দুটি কিস্তিতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মিটিয়ে দেবেন। প্রথম কিস্তিতে ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে ৪০ লক্ষ টাকা এবং চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে বাকি ২.১ কোটি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও টাকা জমা পড়েনি।
সোমবার শুনানির সময় দিল্লি হাইকোর্ট অভিনেতার ওপর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, রাজপাল ডিমান্ড ড্রাফট জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সদিচ্ছা দেখাননি এবং ড্রাফটে থাকা ত্রুটিগুলি সংশোধনের ব্যাপারেও কোনও উদ্যোগ নেননি। অভিনেতার পক্ষ থেকে দেওয়া নানা অজুহাত খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি সাফ জানান, আদালত আর কোনও সহনশীলতা দেখাবে না। নির্দেশ অনুযায়ী, ৪ ফেব্রুয়ারি বুধবারের মধ্যেই রাজপাল যাদবকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এখন দেখার, বলিউডের এই অভিনেতা আদালতের নির্দেশ মেনে আত্মসমর্পণ করেন নাকি উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হন।