জন্মদিনে সেরা প্রাপ্তি! আইসিসি হল অফ ফেমে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, এক্স হ্যান্ডলে আবেগঘন বার্তা ‘মহারাজের’

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ৫৪তম জন্মদিনটি রূপকথার মতো হয়ে রইল। বুধবার সকালে বায়োপিকের ফার্স্ট লুক পোস্টার এবং মুক্তির দিন ঘোষণার চমক পাওয়ার পর, দিনের শেষে আরও এক অনন্য উপহার পেলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক তথা বর্তমান সিএবি প্রেসিডেন্ট। দ্বাদশ ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসি ‘হল অফ ফেমে’ জায়গা করে নিলেন বাংলার গর্ব, ‘মহারাজ’। এই স্বীকৃতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুভেচ্ছার জোয়ারে ভাসছেন সৌরভ।

আগামী ১১ জুলাই, শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসি-র তরফে স্মারক তুলে দেওয়া হবে সৌরভের হাতে। এর আগেই আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ-এর প্রতি নিজের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ সৌরভ লেখেন, “হল অফ ফেমে আমাকে জায়গা দেওয়ার জন্য আইসিসি এবং চেয়ারম্যান জয় শাহ-কে ধন্যবাদ। এটা বিরাট সম্মান। মহান ক্রিকেটারদের এই তালিকায় জায়গা পাওয়া এক অনন্য প্রাপ্তি।” উল্লেখ্য, সৌরভের আগে সুনীল গাভাসকর, সচিন তেন্ডুলকর, রাহুল দ্রাবিড়, বীরেন্দ্র সেহওয়াগ, বিষেণ সিং বেদী, কপিল দেব, অনিল কুম্বলে, ভিনু মানকড়, ডায়না এডুলজি, নীতু ডেভিড এবং মহেন্দ্র সিং ধোনি এই সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

ভারতীয় ক্রিকেট দলের ইতিহাসে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের অধ্যায়টি অবিস্মরণীয়। শতাব্দীর গোড়ার দিকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো বিতর্কে যখন ভারতীয় ক্রিকেট জর্জরিত, তখন হাল ধরেছিলেন এই ‘প্রিন্স অফ ক্যালকাটা’। তাঁর নেতৃত্বে ভারতীয় দলে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়। দল হয়ে ওঠে সাহসী এবং আপসহীন। ২০০২ সালে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি জয় হোক কিংবা ২০০৩ বিশ্বকাপে রানার্স হওয়া—সৌরভের নেতৃত্বেই বিশ্বমঞ্চে টিম ইন্ডিয়ার নতুন পরিচয় তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে, স্টিভ ওয়ের অপরাজেয় অস্ট্রেলিয়াকে টেস্ট সিরিজে হারানো তাঁর নেতৃত্বের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে গণ্য করা হয়।

শুধুমাত্র অধিনায়ক হিসেবেই নয়, ব্যাটার হিসেবেও সৌরভের পরিসংখ্যান ঈর্ষণীয়। টেস্ট ও ওয়ান-ডে ফরম্যাটে ৩৮টি সেঞ্চুরি সহ তিনি সংগ্রহ করেছেন ১৮,৫৭৫ রান। তবে পরিসংখ্যানের বাইরেও সৌরভের সবচেয়ে বড় অবদান হলো একঝাঁক প্রতিভাবান ক্রিকেটারের হাতেখড়ি। যুবরাজ সিং, হরভজন সিং, বীরেন্দ্র সেহওয়াগ, এমএস ধোনি—সৌরভের হাত ধরেই ভারতীয় ক্রিকেটে উঠে এসেছেন এমন সব বিশ্বমানের তারকারা। আজকের এই আইসিসি হল অফ ফেম সম্মান আসলে কেবল একটি মেডেল নয়, বরং ভারতীয় ক্রিকেটকে বিশ্বব্যাপী এক শক্তিশালী ‘পাওয়ার-হাউজ’ হিসেবে গড়ে তোলার স্বীকৃতি। সৌরভের এই অর্জনে গর্বিত সমগ্র দেশ।