ছোটপর্দায় প্রথমবার দ্বৈত চরিত্রে ঝড় তুলতে আসছেন ‘কথা’! নতুন জার্নি নিয়ে যা বললেন সুস্মিতা

ছোটপড়ার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুস্মিতা দে এবার একেবারে নতুন অবতারে পর্দায় ফিরছেন। স্টার জলসার নতুন মেগা সিরিয়াল ‘তিলোত্তমা’-তে তাঁকে একেবারে নতুন এক ভূমিকায় দেখতে পাচ্ছেন দর্শকরা। এর আগে ‘কথা’ ধারাবাহিকে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন সুস্মিতা। তবে নতুন এই ধারাবাহিক শুরু হওয়ার আগেই এর প্রথম ঝলক দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছিল যে, এই গল্পের সঙ্গে কি কলকাতার মর্মান্তিক আরজি কর কাণ্ডের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মিল রয়েছে? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নতুন ধারাবাহিক, পর্দার পেছনের কড়া প্রস্তুতি এবং নিজের ব্যক্তিগত ভাবনা নিয়ে খোলামেলা আড্ডা দিয়েছেন সুস্মিতা।
ক্যারিয়ারে এই প্রথমবার কোনো মেগা সিরিয়ালে দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করছেন সুস্মিতা। এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান যে নতুন এই অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে দারুণ রোমাঞ্চকর হলেও বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের। একই সঙ্গে দুটি সম্পূর্ণ আলাদা চরিত্রকে পর্দায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা এবং তাদের আবেগ ফুটিয়ে তোলা বেশ পরিশ্রমের কাজ। শুধু তাই নয়, এই ধারাবাহিকের চরিত্রের খাতিরে তাঁকে নতুন করে ব্যালে ডান্সও শিখতে হয়েছে। ছোটপর্দায় এর আগে খুব একটা ব্যালে নিয়ে কাজ হয়নি, তাই এই নতুন দক্ষতা অর্জন করতে পেরে তিনি ভীষণ আনন্দিত এবং ইচ্ছা রয়েছে ধারাবাহিকের কাজ শেষ হলেও এই চর্চা চালিয়ে যাওয়ার।
‘তিলোত্তমা’ ধারাবাহিকের গল্পে কি সত্যিই সাম্প্রতিক আলোচিত কোনো ঘটনার ছায়া রয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে সুস্মিতা স্পষ্ট করে জানান যে, মানুষ যেভাবে প্রথম প্রোমো দেখে নানা ধারণা করে নিয়েছিলেন, আদতে বিষয়টার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। নির্মাতা স্নেহাশিস চক্রবর্তী অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিজস্ব ভাবনা থেকে এই গল্পটি সাজিয়েছেন। এটি পুরোপুরি একটি বিনোদনমূলক ধারাবাহিক। যদিও আমাদের চারপাশের সমাজ ও সমসাময়িক পরিস্থিতির কিছু না কিছু প্রভাব গল্পে থাকাটা খুবই স্বাভাবিক, তবুও এটিকে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার ছায়া বলে ধরে নেওয়া ভুল হবে। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা অন্য কোনো বিষয়ের সঙ্গে এই প্রজেক্টের কোনো যোগ নেই, এটি শুধুই বিনোদনের জন্য তৈরি একটি স্বতন্ত্র গল্প।
‘কথা’ ধারাবাহিকের বিপুল সাফল্যের পর দীর্ঘ একটা বিরতি নিয়েছিলেন সুস্মিতা। কেন এই বিরতি জরুরি ছিল? অভিনেত্রীর মতে, একটানা দীর্ঘদিন একটি নির্দিষ্ট চরিত্রের মধ্যে বেঁচে থাকার পর নিজেকে সেই খোলস থেকে পুরোপুরি মুক্ত করা দরকার। অন্য একটি নতুন চরিত্রে নিখুঁতভাবে ঢুকে পড়ার জন্য প্রতিটি শিল্পীরই একটা মানসিক প্রস্তুতির সময় প্রয়োজন হয়। সেই বিরতির সময় তিনি একটি নতুন ওয়েব সিরিজে কাজ করেছেন এবং সবচেয়ে বড় কথা, থিয়েটারের মঞ্চে অভিনয় করেছেন। সুস্মিতার মতে, থিয়েটার হলো আসল অভিনয়ের স্কুল, যা তাঁকে অনেক নতুন কৌশল শিখতে এবং শিল্পী হিসেবে আরও পরিপক্ব হতে সাহায্য করেছে। আগামী দিনেও তাঁর থিয়েটারের আরও শো রয়েছে। দর্শকের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি নিজের কাজের মান প্রতিনিয়ত উন্নত করার তাগিদেই তিনি সবসময় সচেষ্ট থাকেন।
জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গেই তারকাদের জীবনে ট্রোল বা নেতিবাচক মন্তব্য প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা। এই ধরনের সমালোচনা কীভাবে সামলান তিনি? হাসিমুখে সুস্মিতা জানান যে, যেকোনো মানুষের ক্ষেত্রেই শতকরার হিসেবে কিছু সমালোচক থাকবেনই, কিন্তু তার বিপরীতে বহু গুণ বেশি মানুষ তাঁকে ভালোবাসেন। তাই নেতিবাচক মন্তব্যে কান না দিয়ে নিজের ফোকাস শুধু কাজের ওপর তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। দর্শকের এই ভালোবাসাকে সম্মান জানিয়ে আগামী দিনে আরও ভালো কাজ উপহার দেওয়াই তাঁর মূল ব্রত।