জনপ্রিয় অভিনেতা নাগা চৈতন্য এবার নিজের ব্যক্তিত্বের অধিকার (Personality Rights) রক্ষার তাগিদে আইনি পথে হাঁটলেন। গত কয়েক মাস ধরে ইন্টারনেটে তাঁর নাম, ছবি এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে যে ধরনের আপত্তিকর ও মানহানিকর কন্টেন্ট ছড়িয়ে পড়ছে, তার বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। বিচারপতি জ্যোতি সিংয়ের এজলাসে এই মামলার শুনানি শুরু হয়েছে।
আইনি লড়াইয়ের নেপথ্যে কারণ:
নাগা চৈতন্যের আইনজীবী বৈভব গাগ্গার আদালতে সওয়াল করেন, বেশ কিছু ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেল শুধুমাত্র বাণিজ্যিক লাভের আশায় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিউ বাড়ানোর জন্য অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কন্টেন্ট তৈরি করছে। বিশেষ করে ডিপফেক প্রযুক্তি ও এআই-এর অপব্যবহার করে এমন কিছু ভিডিও ছড়ানো হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে, প্রাক্তন স্ত্রী সামান্থা রুথ প্রভুর সঙ্গে সম্পর্কে প্রতারণা করেছেন চৈতন্য এবং সামান্থার ক্যারিয়ার ধ্বংস করেছেন।
প্রযুক্তিগত কারসাজির অভিযোগ:
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, কেবল ছবি বা নাম ব্যবহার নয়, বরং ভয়েস-ক্লোনিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে অভিনেতার কণ্ঠ নকল করে বিকৃত ও কাল্পনিক অডিও-ভিজ্যুয়াল তৈরি করা হচ্ছে। আদালতে বেশ কিছু মানহানিকর ইউটিউব ভিডিওর লিঙ্ক প্রমাণ হিসেবে পেশ করা হয়েছে। আইনজীবীর মতে, এ ধরনের ডিজিটাল কারসাজি কেবল অভিনেতার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ করছে না, বরং দীর্ঘদিনের অর্জিত তাঁর খ্যাতি ও মর্যাদাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। উল্লেখ্য, এর আগে অভিনেতার বাবা তথা মেগাস্টার নাগার্জুনার ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষায় আদালত ইতিবাচক রায় দিয়েছিল, যা এই মামলায় নজির হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত:
তেলুগু চলচ্চিত্র জগতের অগ্রণী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত চৈতন্যের সম্মান রক্ষায় দিল্লি হাইকোর্ট বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। আদালত এ ধরনের কন্টেন্ট ছড়ানোর বিরুদ্ধে একটি সমন জারি করেছে এবং মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের মাধ্যমে আপত্তিকর কন্টেন্ট সরানোর নির্দেশও পাওয়া যেতে পারে বলে আইনি মহলের ধারণা।
নাগা চৈতন্য ও সামান্থা রুথ প্রভুর বিচ্ছেদ ২০২১ সালেই ঘটেছে। বর্তমানে দুজনেই নিজেদের জীবনে ব্যস্ত। নাগা চৈতন্য অভিনেত্রী শোভিতা ধুলিপালাকে বিয়ে করেছেন এবং সামান্থা চলচ্চিত্র নির্মাতা রাজ নিদিমোরুর সঙ্গে নতুন পথ চলা শুরু করেছেন। তা সত্ত্বেও, প্রাক্তন দম্পতিকে নিয়ে প্রযুক্তির এই কুৎসিত অপব্যবহার টলিপাড়া ও দক্ষিণ ভারতের বিনোদন জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই আইনি লড়াই কেবল নাগা চৈতন্যের একার নয়, বরং বিনোদন জগতের সমস্ত তারকাদের ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।





