অ্যামাজন প্রাইমের রিয়েলিটি শোয়ে চরম উত্তেজনা! সহকর্মীর আচরণে ভয়ে কেঁদে ফেললেন সোহেল খান?

অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর জনপ্রিয় মাইন্ড-গেম রিয়েলিটি শো ‘অ্যালায়েন্স’-এর ঘরের অন্দরের পরিবেশ বর্তমানে অত্যন্ত উত্তপ্ত ও থমথমে হয়ে উঠেছে। শো-এর প্রতিযোগীদের মধ্যে চলা নিরন্তর গালিগালাজ, শারীরিক ধাক্কাধাক্কি এবং তীব্র বাকবিতণ্ডার জেরে পুরো শো-এর পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কুশল ট্যান্ডন, আরসলান গনি এবং বংশজ সিংয়ের মধ্যকার এই হাই-ভোল্টেজ নাটক ও হাতাহাতির ঘটনা শো-এর অভিজ্ঞ ও সিনিয়র প্রতিযোগী সোহেল খানকে গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘরের ভেতর থেকে একটি গুরুতর এবং অত্যন্ত আবেগঘন কথোপকথনের ভিডিও সামনে এসেছে, যা দেখে ভক্তরা রীতিমতো হতবাক হয়ে গেছেন। এই ভিডিওটিতে শো-এর সঞ্চালক কুনাল খেমু, সোহেলের প্রাক্তন স্ত্রী সীমা সাজদেহ এবং মিনি মাথুরের সঙ্গে সোহেলের একটি সংবেদনশীল মুহূর্ত ধরা পড়েছে।

প্রকাশ্যে আসা ওই চাঞ্চল্যকর ভিডিওটিতে দেখা যায়, বাড়ির ভেতরে চলা ধারাবাহিক শারীরিক নির্যাতন ও আক্রমণাত্মক মৌখিক আচরণে সোহেল খান মানসিকভাবে অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়েছেন। নিজের বিছানায় বসে বিষণ্ণ মনে সোহেল শো-এর সঞ্চালক কুনাল খেমুর কাছে নিজের ভয় ও কষ্টের কথা প্রকাশ করে বলেন যে তাঁরও ভীষণ ভয় করছে। প্রবীণ অভিনেতাকে এমন অসহায় ও বিচলিত অবস্থায় দেখে কুনাল খেমু অত্যন্ত স্নেহের সঙ্গে ছোট ভাইয়ের মতো তাঁর কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা দেন এবং বলেন, “স্যার, একদম চিন্তা করবেন না। আপনি সম্পূর্ণ শান্ত থাকুন… আমি সমস্ত পরিস্থিতি সামলে নেব।” কুনালের এই সহানুভূতিশীল আচরণ কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেয়।

তবে এই গোলমালের আঁচ শুধু সোহেলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং অন্য প্রতিযোগীদের মধ্যেও তীব্র অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। ভিডিওর পরবর্তী অংশে দেখা যায়, অভিনেত্রী সীমা সাজদেহ এবং জনপ্রিয় সঞ্চালিকা মিনি মাথুর ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন। বাড়ির ভেতরে চলা এই রূঢ় আক্রমণাত্মক আচরণ এবং চরম বিশৃঙ্খলা দেখে মিনি মাথুরের ক্ষোভ উপচে পড়ে। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নিজের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এটা মোটেও কোনো ভালো ব্যাপার না। আমি এই ধরনের সস্তা জিনিস এবং কদর্য ঝগড়ার অংশ হতে এই শো-তে আসিনি। আমি শুরুতেই ভেবেছিলাম এটি একটি অত্যন্ত ক্লাসিক এবং মার্জিত একটি রিয়েলিটি শো হবে, কিন্তু এখানকার পরিবেশটা সম্পূর্ণ অন্যরকম ও অসহ্য হয়ে উঠেছে।” মিনি মাথুরের এই জোরালো বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করেন সীমা সাজদেহও। তাঁরা দুজনেই অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে সোহেল খানকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেন এবং পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেন।

এদিকে, পুরো ঘটনার তীব্রতা বুঝে শো-এর সঞ্চালক কুনাল খেমু অত্যন্ত পরিপক্কতা এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পুরো পরিস্থিতিটি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি মিনি মাথুর এবং সোহেল খানকে বুঝিয়ে বলেন যে, প্রতিযোগিতার এই মঞ্চে যখন কেউ অপর পক্ষের দ্বারা কোণঠাসা হয়ে পড়েন বা তীব্র হেনস্থার শিকার হন, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের ভেতর থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া বেরিয়ে আসে। কুনাল অত্যন্ত সংযতভাবে বলেন, “এখানে উপস্থিত কেউই ব্যক্তিগতভাবে মনে মনে খারাপ মানুষ নন। কেউ যখন চরম কোণঠাসা বোধ করেন, তখন তাঁর সুপ্ত ক্ষোভ ও রাগ বাইরে বেরিয়ে আসে। তবে হ্যাঁ, কোনো যুক্তিতেই প্রথমে কারো বুকে হাত তোলা বা গায়ে হাত দিয়ে আঘাত করাটা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না, এটি সম্পূর্ণ ভুল।” সব মিলিয়ে, ‘অ্যালায়েন্স’-এর অন্দরের এই ক্ষমতার লড়াই ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ আগামী দিনে শো-কে কোন মোড়ে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।