মোহনবাগান সাম্রাজ্যে মহাপ্রয়াণ! মাঝরাতে নিভে গেল টুটু বসুর জীবনপ্রদীপ, শোকস্তব্ধ ময়দান

কলকাতা ময়দান আজ অভিভাবকহীন। নিভে গেল একটি যুগের শেষ আলোকবর্তিকা। দীর্ঘ রোগভোগের পর মঙ্গলবার রাত ১১ টা ৫৫ মিনিটে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন মোহনবাগান সুপারজায়ান্টের প্রাণপুরুষ স্বপনসাধন (টুটু) বসু। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তাঁর প্রয়াণে কেবল মোহনবাগান নয়, সমগ্র ভারতীয় ফুটবল মহলে শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে।

সূত্রের খবর, সোমবার রাতে তিনি গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতে ফের একবার ‘ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক’ হয় এবং চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি না-ফেরার দেশে চলে যান। মঙ্গলবার হাসপাতালে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন এআইএফএফ (AIFF) সভাপতি কল্যাণ চৌবে এবং কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও তাঁর স্বাস্থ্যের নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না।

টুটু বসু মানেই ছিল এক আবেগ। মোহন সমর্থকদের কাছে রসগোল্লা যেমন কলকাতার পরিচয়, টুটু বসু ছিলেন মোহনবাগানের তেমনই অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯৯১ সালে ধীরেন দে-র উত্তরসূরি হিসেবে সচিব পদে তাঁর অভিষেক ছিল ধূমকেতুর মতো। এরপর অঞ্জন মিত্রের সঙ্গে তাঁর সেই কিংবদন্তি ‘টুটু-অঞ্জন’ জুটি মোহনবাগানকে নিয়ে গিয়েছিল সাফল্যের শিখরে। চিমা ওকোরি থেকে ওডাফা ওকোলি, কিংবা সনি নর্ডি—বিশাল অঙ্কের চুক্তিতে বিদেশি তারকাদের এনে কলকাতার ফুটবলে পেশাদারিত্বের ছোঁয়া দিয়েছিলেন তিনিই। ক্লাবের কঠিন সময়ে যখন স্পনসর ছিল না, তখন মাসের পর মাস একার কাঁধে ক্লাবের আর্থিক ভার বহন করেছেন এই দানবীর কর্তা।

গত বছরের ৩০ জুলাই মোহনবাগান দিবসে তাঁকে ‘মোহনবাগান রত্ন’ সম্মানে ভূষিত করা হয়। সেদিন হুইলচেয়ারে বসে চোখের জলে তিনি বলেছিলেন, “আগামী জন্মেও যেন মোহনবাগান সমর্থক হয়েই জন্মাতে পারি।” ক্লাবে ৫ লক্ষ টাকা দান করে অনুরোধ করেছিলেন, যাতে তাঁকে আজীবনের সদস্যপদ দেওয়া হয় এবং পরজন্মেও তিনি যেন সেই কার্ড দেখিয়ে মাঠে ঢুকতে পারেন। ক্লাবের ক্যান্টিনটি তাঁর নামে করার এক ছোট্ট আবদারও করেছিলেন তিনি। আজ সবটাই স্মৃতিতে পরিণত হলো। মোহনবাগান আজ সত্যিই তাদের প্রকৃত ‘সুপারজায়ান্ট’কে হারাল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy