রবিবার বেঙ্গালুরুর ক্রিকেট ময়দানে নেমে এল এক মর্মান্তিক শোকের ছায়া। কর্ণাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (KSCA) আয়োজিত একটি তৃতীয় ডিভিশন লিগ ম্যাচে খেলতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন প্রাক্তন রঞ্জি ট্রফি জয়ী ক্রিকেটার এসএল অক্ষয়। তাঁর অকাল প্রয়াণে স্তম্ভিত ক্রীড়া বিশ্ব।
ঘটনাটি ঘটে বেঙ্গালুরুর বোম্বাসান্দ্রার এসএলএস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। স্যাপহায়ার ক্লাবের হয়ে ভারত ক্রিকেট ক্লাবের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিলেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফাস্ট বোলার। এদিন নিজের কোটার চার ওভার বোলিংও করেছিলেন তিনি। এরপর ফিল্ডিং করার সময় আচমকাই অসুস্থ বোধ করেন অক্ষয়। শারীরিক অস্বস্তির কারণে তিনি মাঠ থেকে বেরিয়ে আসেন এবং প্যাভিলিয়নের পাশে বিশ্রাম নিতে শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেই সময় তিনি জল পান করেন এবং একটি কলা খান। কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরেই বিশ্রামরত অবস্থায় হঠাৎ তিনি মাঠে লুটিয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি তাঁকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়, কিন্তু পথেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই প্রাক্তন ক্রিকেটার।
২০১৪-১৫ মরশুমে রঞ্জি ট্রফি জয়ী কর্ণাটক দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন অক্ষয়। ডানহাতি এই ফাস্ট বোলার রাজ্যের হয়ে ছ’টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ, তিনটি লিস্ট-এ এবং ন’টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলেন। এছাড়া ২০১২-১৩ মরশুমে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতেও তিনি কর্ণাটকের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। কর্ণাটক প্রিমিয়র লিগে (KPL) বিজয়পুর বুলস-এর জার্সিতেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল। শুধু খেলোয়াড় হিসেবেই নয়, পরবর্তীকালে কোচ হিসেবেও তিনি সমান দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন। কর্ণাটক অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রশিক্ষক হিসেবে তিনি তরুণ প্রতিভাদের খুঁজে বের করতে এবং তাদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন।
তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন কর্ণাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন এবং ক্রিকেটপ্রেমীরা। প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ডোড্ডা গণেশ আবেগঘন টুইট করে লিখেছেন, “অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার সময় থেকেই ওকে খুব কাছ থেকে চিনি। অত্যন্ত শান্ত এবং মিতভাষী এই মানুষটিকে এমনভাবে হারিয়ে ফেলাটা মেনে নেওয়া কঠিন। ২০১২ মরশুমের সেই সব স্মৃতি আজও অমলিন। ঈশ্বর তাঁর আত্মার শান্তি দান করুন।” মাঠের লড়াইয়ে প্রাণ হারানো এই অকুতোভয় ক্রিকেটারকে হারিয়ে শোকাতুর তাঁর সতীর্থ ও পরিবারের সদস্যরা।





