বাবার পদবি মুছে ফেলেছেন জীবন থেকে! কেন ‘হাসমি’ পরিচয় দিতে অস্বীকার করলেন তাবু? প্রকাশ্যে এল কঠোর সত্য

বলিউডে তাঁর অভিনয় মানেই আভিজাত্য আর গভীরতা। কিন্তু গ্ল্যামার দুনিয়ার এই উজ্জ্বল নক্ষত্র তাবু ওরফে তাবাসসুম ফাতিমা হাসমির ব্যক্তিগত জীবন আজও অনেকখানি রহস্যে মোড়া। সম্প্রতি এক পুরনো সাক্ষাৎকারের সূত্রে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর জীবনের এক কঠিন অধ্যায়— কেন তিনি কোনোদিন তাঁর বাবার পদবি ‘হাসমি’ ব্যবহার করেননি?

ছেঁড়া শৈশব ও বাবার অনুপস্থিতি: মাত্র তিন বছর বয়সে মা-বাবার বিচ্ছেদ দেখেছিলেন তাবু। তারপর থেকেই বাবার সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। হায়দরাবাদে মামাবাড়িতেই কেটেছে তাঁর শৈশব। মা শিক্ষিকা হওয়ায় দিনের অনেকটা সময় কাটত দিদিমার কাছে। তাবু জানিয়েছেন, “বাবার কোনো স্মৃতিই আমার কাছে নেই। আমার দিদি ফারহা মাঝে মাঝে তাঁর সঙ্গে দেখা করলেও, আমার কোনোদিন তাঁকে দেখার কৌতূহল হয়নি।” এমনকি তাবুর বাবা পরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং সেখানেও তাঁর দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। কিন্তু সেই পরিবারের সঙ্গে তাবুর কোনো সম্পর্ক নেই।

স্কুলের খাতা থেকে রুপোলি পর্দা— কেন ব্রাত্য পদবি? তাবুর আসল নাম তাবাসসুম ফাতিমা হাসমি। কিন্তু স্কুলে তাঁর পদবি ছিল কেবল ‘ফাতিমা’। অভিনেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি কোনোদিন বাবার পদবি ব্যবহারের প্রয়োজন বোধ করেননি। দিদিমার বই পড়া আর প্রার্থনার পরিবেশই তাঁর চরিত্রে গভীরতা এনে দিয়েছে। লাজুক ও অন্তর্মুখী স্বভাবের তাবু আজ নিজের একক পরিচয়েই স্বচ্ছন্দ।

সিঙ্গেল থাকা ও ক্যারিয়ারের ব্যস্ততা: ৫৩ বছর বয়সেও কেন একা? এই প্রশ্নে তাবু বরাবরই স্পষ্টবক্তা। তাঁর মতে, বিবাহিত হওয়া বা সন্তান থাকাটাই জীবনের একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না। বর্তমানে তিনি বিজয় সেতুপতির বিপরীতে প্যান-ইন্ডিয়া প্রজেক্ট এবং অক্ষয় কুমারের সঙ্গে ‘ভূত বাংলা’ ছবিতে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত। নিজের ব্যক্তিগত নিঃসঙ্গতাকে শক্তিতে পরিণত করে তাবু প্রমাণ করেছেন, নারীর নিজের পরিচয়ই সবথেকে বড় সম্পদ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy