বলিউডের বাদশা শাহরুখ খান বলে গিয়েছেন, ‘হারকর জিতনে বালো কো বাজিগর কহতে হ্যায়…’। সেই কথারই যেন বাস্তব প্রতিফলন ঘটল অভিনেতা-গায়ক আয়ুষ্মান খুরানার জীবনে। অভিনয় ও সঙ্গীত জগতে দাপিয়ে বেড়ানো এই শিল্পী একসময় ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর মঞ্চে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। আজ সেই একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে গান গেয়ে তিনি নিজের সাফল্যের বৃত্ত সম্পূর্ণ করলেন। সামাজিক মাধ্যমে নিজের সেই অনুভূতির কথা শেয়ার করে অভিনেতা লিখেছেন, “এটি ‘দিল ওয়ালে চোর’ (রিপ্রাইজ)-এর বর্ধিত সংস্করণ, যা আমি ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর মঞ্চে পরিবেশন করেছিলাম। সেই একই মঞ্চ, যা একসময় আমার সংগ্রামের দিনগুলোতে আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। এ এক অবিশ্বাস্য অনুভূতি!”
তবে আয়ুষ্মানই একমাত্র নন, বলিউডের এমন অনেক সফল তারকা রয়েছেন, যাঁদের সঙ্গীতজীবনের শুরুটা হয়েছিল চরম হতাশার মাধ্যমে। কিন্তু সেই প্রত্যাখ্যানই তাঁদের সাফল্যের জ্বালানি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
নেহা কক্কর: বর্তমানের জনপ্রিয় গায়িকা নেহা কক্কর ২০০৬ সালে ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর দ্বিতীয় সিজনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেরা ১০ জনের তালিকায় জায়গা করে নিলেও, দুর্ভাগ্যবশত প্রতিযোগিতার শুরুর দিকেই তিনি বাদ পড়ে যান। কিন্তু অদম্য অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি বলিউডের অন্যতম সফল নেপথ্য গায়িকা হয়ে ওঠেন এবং পরবর্তীতে এই শো-এর বিচারক হিসেবে ফিরে এসে ইতিহাস তৈরি করেন।
বিশাল মিশ্র: ‘কবীর সিং’-এর ‘ক্যায়সে হুয়া’ বা ‘অ্যানিমাল’-এর ‘পহলে ভি ম্যায়’-এর মতো ব্লকবাস্টার গান দেওয়া বিশাল মিশ্রও একসময় অডিশনের গণ্ডি পার করতে পারেননি। তিনি চতুর্থ ও ষষ্ঠ সিজনে অডিশন দিয়ে বিচারকদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। কিন্তু সেই ব্যর্থতাকে তিনি নিজের দক্ষতা শানিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজে লাগিয়েছিলেন।
রাহুল বৈদ্য: প্রথম সিজনের দ্বিতীয় রানার-আপ রাহুল বৈদ্যের অডিশনের একটি পুরনো ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে। সেখানে বিচারক সোনু নিগম ও অনু মালিককে তাঁর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের জন্য তাঁকে তিরস্কার করতে দেখা যায়। যদিও তিনি প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করেছিলেন, তবুও শুরুর সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা আজও ভক্তদের মনে গেঁথে আছে।
মৈথিলী ঠাকুর: মাত্র ১২ বছর বয়সে ‘ইন্ডিয়ান আইডল জুনিয়র’-এর অডিশনে ব্যর্থ হয়েছিলেন মৈথিলী। প্রাথমিক ধাপ পার করতে না পারলেও, তিনি দমে যাননি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে কাজে লাগিয়ে তিনি মৈথিলী ও ভোজপুরি লোকসংগীতের মাধ্যমে ভাইরাল সেনসেশনে পরিণত হন। পরবর্তীকালে ‘রাইজিং স্টার ইন্ডিয়া’-র ফাইনালিস্ট হিসেবে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, কোনো একটি মঞ্চের প্রত্যাখ্যান মানেই সব শেষ নয়।
এই শিল্পীদের জীবনকাহিনী আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে এক বিরাট অনুপ্রেরণা। এটি আমাদের শেখায় যে, পথ চলতে গিয়ে ব্যর্থতা বা প্রত্যাখ্যান আসতেই পারে, কিন্তু ধৈর্য ও একাগ্রতা থাকলে একদিন সেই প্রত্যাখ্যাত মঞ্চেই জয়ধ্বনি শোনা যায়।





