বিজ্ঞানের জয়জয়কারের যুগেও কিছু দাবি মানুষকে স্তম্ভিত করে দেয়। সম্প্রতি এক নামী সেলেব ইনফ্লুয়েন্সার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এমন এক দাবি করেছেন, যা নিয়ে নীতি-পুলিশ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চলছে তীব্র বাদানুবাদ। ওই ইনফ্লুয়েন্সারের দাবি, তাঁর এক পরিচিতের সন্তান হচ্ছিল না এবং পুরুষাঙ্গের অক্ষমতা বা ‘অকেজো’ হওয়ার সমস্যা ছিল। কিন্তু তাঁর হাতের স্পর্শে নাকি ঘটেছে ‘ম্যাজিক’!
বিস্ফোরক দাবি ও বিতর্ক: ভাইরাল হওয়া সেই পোস্টে ওই ইনফ্লুয়েন্সার দাবি করেছেন যে, তিনি যখন ওই ব্যক্তিকে বিশেষভাবে ‘ছুঁয়ে’ দিয়েছিলেন, তারপর থেকেই নাকি অলৌকিকভাবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় এবং ওই দম্পতি সন্তান লাভ করেন। তাঁর কথায়,
“ওর কোনোভাবেই বাচ্চা হচ্ছিল না, চিকিৎসকরাও হাল ছেড়েছিলেন। আমি ওর অকেজো পুরুষাঙ্গ ভালো করে ছুঁয়ে দিতেই যেন ম্যাজিক হলো! আজ ওরা মা-বাবা হতে পেরেছে।”
নেটিজেনদের রুদ্রমূর্তি: এই পোস্ট সামনে আসতেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নেটিজেনদের বড় অংশ একে ‘ভণ্ডামি’ এবং ‘অশ্লীল প্রচার’ বলে তকমা দিয়েছেন। অনেকের মতে, নিজের রিচ (Reach) বাড়াতে এবং ফলোয়ারদের বিভ্রান্ত করতে এ ধরনের নিম্নমানের দাবি করছেন ওই ইনফ্লুয়েন্সার। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, বন্ধ্যত্বের মতো একটি জটিল মেডিকেল বিষয়কে এভাবে ‘স্পর্শ’ বা ‘ম্যাজিক’-এর মোড়কে উপস্থাপন করা কতটা যুক্তিযুক্ত?
[Image: Social media post with angry emoji and medical symbols]
চিকিৎসকদের মত: চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা এই দাবিকে সরাসরি নস্যাৎ করে দিয়েছেন। তাঁদের মতে, বন্ধ্যত্ব বা যৌন অক্ষমতা সম্পূর্ণ একটি জৈবিক সমস্যা যা সঠিক চিকিৎসা ও থেরাপির মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব। কোনো ইনফ্লুয়েন্সারের ছোঁয়া বা ম্যাজিকে এমনটা হওয়া চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিপন্থী।
ইন্টারনেটের যুগে সচেতনতা: সোশ্যাল মিডিয়ায় ইনফ্লুয়েন্সারদের বিশাল বড় ফলোয়ার বেস থাকে। তাঁদের প্রতিটি কথা বা কাজ সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করে। সেক্ষেত্রে এ ধরণের অবৈজ্ঞানিক এবং কুরুচিকর দাবি সমাজকে ভুল পথে চালিত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সমাজবিজ্ঞানীরা।