সকল শুভ কাজের সূচনা হয় শ্রী গণেশের আরাধনার মাধ্যমে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে সিদ্ধিদাতা গণেশ সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক। ভগবান শিব ও পার্বতীর এই পুত্রের জন্মোৎসব প্রতি বছর ‘গণেশ চতুর্থী’ নামে উদযাপিত হয়। ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়ে থাকে।
এই বছর গণেশ চতুর্থী পালিত হবে ১৭ সেপ্টেম্বর, বুধবার। গণেশ চতুর্থী তিথি শুরু হবে ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ৫৩ মিনিটে এবং তা শেষ হবে ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা ২৮ মিনিটে। এই বিশেষ দিনে বেশ কিছু শুভ মুহূর্তও থাকছে। গণেশ চতুর্থীর অমৃতযোগ হলো দিবা ঘ ৭/২ থেকে ৯/৩১ পর্যন্ত এবং ১১/১০ থেকে ৪/৫৭ পর্যন্ত। এছাড়া, রাত্রি ৬/৩৩ থেকে ৮/৫৩ এবং ১/৩১ থেকে ৫/২০ পর্যন্ত অমৃতযোগ থাকবে। অন্যদিকে, মাহেন্দ্রযোগ থাকবে দুপুর ১/৩৯ থেকে ৩/১৮ এবং রাত্রি ৮/৫৩ থেকে ১০/২৫ পর্যন্ত।
গণেশ চতুর্থীর উৎসব সাধারণত দশ দিন ধরে চলে। একাদশতম দিনে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়, যা ‘অনন্ত চতুর্দশী’ নামে পরিচিত। একসময় শুধুমাত্র ব্যবসায়ীরাই এই উৎসব পালন করতেন, কিন্তু এখন অনেক পরিবারেও গণেশ বন্দনার আয়োজন করা হয়।
মহারাষ্ট্রের গণেশ চতুর্থী উদযাপন সবচেয়ে বড় এবং জমকালো হয়। এটি অনেকটা পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপূজার মতোই বড় আকারে পালিত হয়। এছাড়াও গোয়া, কর্ণাটক, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, ওড়িশা, গুজরাট, ছত্তিশগড়, এবং পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যেও এই উৎসব পালিত হয়। শ্রীলঙ্কার তামিল হিন্দুরাও এই উৎসবে অংশ নেন। ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় এই উৎসব ভিন্ন নামে পরিচিত, যেমন কন্নড়, তামিল, তেলেগু ও সংস্কৃত ভাষায় একে ‘বিনায়ক চতুর্থী’ বা ‘বিনায়ক চবিথি’ বলা হয়। কোঙ্কণি ভাষায় এটি ‘চবথ’ এবং নেপালি ভাষায় ‘চথা’ নামে পরিচিত। এই উৎসবকে ‘গণেশ মহোৎসব’ নামেও ডাকা হয়।