সনাতন ধর্মে মকর সংক্রান্তি বা উত্তরায়ণের গুরুত্ব অপরিসীম। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, সূর্য যখন ধনু রাশি ত্যাগ করে শনির রাশি মকরে প্রবেশ করেন, তখনই পালিত হয় এই উৎসব। ২০২৬ সালে মকর সংক্রান্তি অত্যন্ত বিশেষ হতে চলেছে। দিনটি শুধুমাত্র ঋতু পরিবর্তনের প্রতীক নয়, বরং আধ্যাত্মিক উন্নতির শ্রেষ্ঠ সময় হিসেবে বিবেচিত।
২০২৬ মকর সংক্রান্তির পুণ্যক্ষণ ও সময়সূচি: পঞ্জিকা মতে, আগামী ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, বুধবার সূর্যদেব বিকেল ৩টে ১৩ মিনিটে মকর রাশিতে প্রবেশ করবেন।
-
মকর সংক্রান্তি মুহূর্ত: দুপুর ৩:১৩ মিনিট।
-
মহাপুণ্য সময়: বিকেল ৩:১৩ মিনিট থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪:৫৮ মিনিট পর্যন্ত।
-
গঙ্গা স্নানের শুভ সময়: সকাল ৯:০৩ মিনিট থেকে ১০:৪৮ মিনিট।
মকর সংক্রান্তির পূজা ও দানের মহিমা: এই দিনটিতে সূর্য দেবতাকে সন্তুষ্ট করতে স্নান ও দানের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। শাস্ত্র মতে যা করণীয়: ১. পবিত্র স্নান: সূর্যোদয়ের আগে গঙ্গা বা যে কোনো পবিত্র নদীতে স্নান করুন। বাড়িতে স্নান করলে জলে সামান্য গঙ্গা জল মিশিয়ে নিন। ২. সূর্য অর্ঘ্য: তামার পাত্রে জল, চাল, লাল ফুল ও রোলি মিশিয়ে সূর্য দেবতাকে নিবেদন করুন। জপ করুন— “ওঁ ঘৃণী সূর্যায় নমঃ”। ৩. দান-পুণ্য: সংক্রান্তিতে তিল, গুড়, চাল, নতুন বস্ত্র এবং কম্বল দান করা অত্যন্ত শুভ। বিশেষ করে তিলের লাড্ডু ও খিচুড়ি ভোগ নিবেদন করে তা বিতরণ করা পুণ্যের কাজ।
এক উৎসব, নানা নাম: মকর সংক্রান্তি মানেই বৈচিত্র্যের মেলা। এই উৎসব দক্ষিণ ভারতে পোঙ্গল, পাঞ্জাবে লোহরি, গুজরাতে উত্তরায়ণ এবং উত্তর ভারতে ও বাংলায় খিচড়ি বা পৌষ সংক্রান্তি নামে পরিচিত।
কেন এই দিনটি এত গুরুত্বপূর্ণ? পুরাণ মতে, এই দিনেই ভগবান বিষ্ণু অসুরদের বিনাশ করে পৃথিবীতে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আবার অন্য এক মতানুসারে, দেবী গঙ্গা এই দিনেই রাজা ভাগীরথের পিছনে পিছনে মর্ত্যে এসে কপিল মুনির আশ্রম স্পর্শ করেছিলেন। এছাড়াও মনে করা হয়, এই দিনেই পিতা সূর্যদেব তাঁর পুত্র শনির গৃহে মকর রাশিতে দেখা করতে যান। তাই মকর সংক্রান্তি হলো সম্পর্কের তিক্ততা দূর করে নতুন শুরুর শুভ লগ্ন।