হিন্দু ধর্মে মকর সংক্রান্তির গুরুত্ব অপরিসীম। জ্যোতিষশাস্ত্রে এই দিনটিকে সূর্যের উত্তরায়ন এবং জীবনে নতুন পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখা হয়। ২০২৬ সালে আগামী ১৪ জানুয়ারি পালিত হতে চলেছে এই উৎসব। তবে এবারের মকর সংক্রান্তি অন্য বছরের চেয়ে আলাদা, কারণ এদিন তৈরি হচ্ছে একাধিক বিরল শুভ যোগ।
একই দিনে তিন শুভ যোগের মেলা
পঞ্জিকা অনুসারে, এবারের সংক্রান্তি পড়েছে শত্তিলা একাদশীর দিনে। এছাড়া এদিন একই সঙ্গে থাকবে সর্বার্থ সিদ্ধি যোগ এবং অমৃত সিদ্ধি যোগ। জ্যোতিষীদের মতে, এমন সংযোগ কয়েক দশকে একবার আসে। এর শুভ প্রভাবে ৪টি রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে অর্থ ও সাফল্যের বন্যা আসতে চলেছে।
মকর সংক্রান্তিতে যে ৪ রাশির ভাগ্য চমকাবে:
১. মেষ রাশি (Aries): সংক্রান্তির শুভ প্রভাবে আপনার কর্মজীবনে বড় পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘদিনের আটকে থাকা সরকারি কাজ দ্রুত গতিতে এগোবে। আয়ের নতুন উৎস খুঁজে পাবেন, যা আপনার আর্থিক ভিত্তিকে মজবুত করবে। নতুন বাড়ি বা গাড়ি কেনার স্বপ্ন এবার পূরণ হতে পারে। বিবাহিত জীবনে ফিরবে সুখ ও শান্তি।
২. সিংহ রাশি (Leo): সূর্য মকর রাশিতে প্রবেশ করার ফলে সিংহ রাশির জাতকরা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন। চাকরিজীবীদের পদোন্নতি ও বেতন বৃদ্ধির জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায় বড় অংকের লাভের মুখ দেখবেন। খরচ কমবে এবং আইনি কোনো ঝামেলা থাকলে তা থেকে মুক্তি পাবেন। স্বাস্থ্যেরও প্রভূত উন্নতি হবে।
৩. তুলা রাশি (Libra): ২০২৫ সালের যেসব ইচ্ছা অপূর্ণ রয়ে গিয়েছে, ২০২৬-এর এই সংক্রান্তি তা পূর্ণ করবে। যারা নতুন চাকরির সন্ধানে আছেন, তাঁদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ অপেক্ষা করছে। বন্ধুদের সঙ্গে কোনো নতুন ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা সফল হতে পারে। দীর্ঘদিনের পুরনো কোনো রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার যোগ রয়েছে।
৪. মকর রাশি (Capricorn): সূর্য আপনার রাশিতেই প্রবেশ করছে, ফলে আত্মবিশ্বাস কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যবসা পুনরায় চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। বিনিয়োগ থেকে মোটা টাকা রিটার্ন পাবেন। কর্মক্ষেত্রে নতুন দায়িত্ব ও সম্মান বৃদ্ধি পাবে। মানসিকভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি চনমনে ও উদ্যমী বোধ করবেন।
দান ও স্নানের মহিমা
মকর সংক্রান্তির দিন গঙ্গাস্নান এবং তিল, গুড় ও কম্বল দান করাকে অত্যন্ত পুণ্য কর্ম বলে মনে করা হয়। মনে করা হয়, এই দিন সূর্যদেবকে অর্ঘ্য নিবেদন করলে জীবনের সমস্ত অন্ধকার দূর হয়ে আলোর দিশা মেলে।
ডিসক্লেইমার: এখানে দেওয়া তথ্য সাধারণ অনুমান ও জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় গণনার উপর ভিত্তি করে। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া শ্রেয়।