আজ, জন্মাষ্টমীর পবিত্র দিনে, বাঙালি বাড়িতে আদরের লাড্ডু গোপালের জন্য বিশেষ ভোগের আয়োজন করা হয়। এই দিনে নিয়ম মেনে ৫৬ ভোগ নিবেদন করার প্রচলন থাকলেও, অনেকেই সাধ্যমতো নানারকম সুস্বাদু খাবার তৈরি করে গোপালকে প্রসন্ন করার চেষ্টা করেন। শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম প্রিয় বাঙালি মিষ্টি হলো মালপোয়া। তাই জন্মাষ্টমীর এই বিশেষ দিনে আপনিও বাড়িতে খুব সহজে প্রিয় গোপালের জন্য এই সুস্বাদু মালপোয়া তৈরি করতে পারেন।
মালপোয়া তৈরির উপকরণ:
- ময়দা: ১ কাপ
- সুজি বা সেমাই: হাফ কাপ
- গুড় বা চিনি: ১/৪ কাপ
- এলাচ গুঁড়ো: ১/৪ চা চামচ
- মৌরি: হাফ চা চামচ
- দুধ: হাফ কাপ
- জল: প্রয়োজন মতো
- তেল বা ঘি: ডুবো তেলে ভাজার জন্য
- খোয়া, নারকেল, দই (ঐচ্ছিক)
চিনির রস তৈরির উপকরণ:
- চিনি: ১ কাপ
- জল: হাফ কাপ
- এলাচ গুঁড়ো: ১/৪ চা চামচ
- কেশর: কয়েকটি (ঐচ্ছিক)
প্রস্তুত প্রণালী:
১. প্রথমে একটি বড় পাত্রে ময়দা, সুজি, গুড় বা চিনি মিশিয়ে নিন। এরপর এতে মৌরি এবং এলাচ গুঁড়ো যোগ করুন।
২. এই শুকনো মিশ্রণে দুধ দিয়ে ধীরে ধীরে মেশাতে থাকুন যাতে কোনো ডেলা বা দানা না থাকে। প্রয়োজন মতো জল যোগ করে একটি মসৃণ এবং ঢালার উপযোগী ঘনত্বের ব্যাটার তৈরি করুন। খেয়াল রাখবেন, ব্যাটারটি যেন খুব পাতলা না হয়।
৩. ব্যাটারটি ভালো করে ৫ মিনিট ধরে ফেটিয়ে নিন এবং তারপর আধ ঘণ্টার জন্য ঢেকে রেখে দিন।
৪. এবার একটি কড়াই বা প্যানে তেল অথবা ঘি গরম করুন। এক হাতা ব্যাটার গরম তেলে ঢেলে দিন। মালপোয়া যখন ফুলতে শুরু করবে, তখন চামচ দিয়ে তার ওপর গরম তেল ছড়িয়ে দিন। মালপোয়াটি লুচির মতো ফুলে উঠলে দু’দিকই সোনালি-বাদামি রঙ হওয়া পর্যন্ত ভাজুন।
৫. ভাজা মালপোয়াগুলো তেল থেকে তুলে একটি টিস্যু পেপারের ওপর রাখুন যাতে অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়।
৬. একই সময়ে চিনির রস তৈরি করে নিন। একটি পাত্রে জল এবং চিনি মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। এতে এলাচ গুঁড়ো এবং কেশর যোগ করুন। হালকা আঠালো রস তৈরি হলে নামিয়ে নিন।
৭. এবার গরম মালপোয়াগুলো এই গরম চিনির রসে ডুবিয়ে দিন। প্রায় ১০ মিনিট ধরে রসে ডুবিয়ে রাখলে মালপোয়ার ভেতরে রস ভালোভাবে ঢুকে যাবে।
৮. ১০ মিনিট পর মালপোয়াগুলো রস থেকে তুলে নিলেই আপনার সুস্বাদু মালপোয়া প্রসাদের জন্য প্রস্তুত। এই সহজ রেসিপি দিয়ে আপনার ঘরের গোপালের জন্মাষ্টমী আরও মধুর করে তুলুন।