‘সজল আর আমার…’,কালী পুজোয় হাজির হয়ে পুরোনো দিনের স্মৃতি তুলে ধরলেন শুভেন্দু

আহিরীটোলা সর্বজনীনের কালীপুজোর শুভ উদ্বোধনে এসে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিশেষ রসায়নের কথা প্রকাশ্যে আনলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার পুজোর উদ্বোধনী মঞ্চে দাঁড়িয়ে সজল ঘোষের সঙ্গে নিজের পুরোনো দিনের পড়াশোনার স্মৃতি ও পারস্পরিক সখ্যতার কথা জানান তিনি। একই বিষয়ে পড়াশোনা করার কারণে কীভাবে দু’জনের চিন্তাভাবনায় মিল রয়েছে, তা তুলে ধরেন তিনি।

মঞ্চে ভাষণ দেওয়ার সময় শুভেন্দু অধিকারী জানান, সজল ঘোষ না বললে হয়তো তাঁর এখানে আসা হত না। তাঁদের সম্পর্কের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “সজল এখানে সিটি কলেজে পড়ত, আর আমি পড়তাম কাঁথির কলেজে। আমাদের দু’জনেরই বিষয় ছিল কমার্স, অ্যাকাউন্টেন্সি অনার্স। ফলে দু’জনের ভাবনাই ভেনচার, ব্যালেন্স শিট, ইনকাম এক্সপেনডিচার, প্রফিট অ্যান্ড লস, ডেবিট ও ক্রেডিটের মতো হিসাবনিকাশ ঘিরে। দু’জনেই একই সাবজেক্ট নিয়ে পড়াশোনা করেছি।” একই বিষয়ের ছাত্র হওয়ায় সজলের সঙ্গে তাঁর ভাবনার অনেক মিল রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সম্পর্কের রসায়ন বোঝাতে গিয়ে শুভেন্দু আরও যোগ করেন, “সজল কিছু বলে দেওয়া মানে সেটা আমার কাছে একপ্রকার নির্দেশ। ও আমাকে বলেছিল, ‘আমার বোনকে কি তুমি একটু খুশি করতে পারো না?’ সেই কারণেই ভ্রাতৃদ্বিতীয়া বা ভাইফোঁটার ঠিক আগেই আমি বোনের বাড়ি চলে এসেছি।” বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্যের পরই মঞ্চে বসা সজল ঘোষকে দেখা যায় নিজের আসন থেকে উঠে কান ধরে জিভ কাটতে। এই মধুর অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেই দুজনের পারস্পরিক দাদা-ভাইয়ের সুসম্পর্ক পরিষ্কার ফুটে ওঠে।

শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে কমার্সে অখণ্ড মনোযোগ এবং কমার্স অনার্সের কথা স্মরণ করালেও, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। গত ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের সময় জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তিনি ২০১১ সালে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ (M.A.) অর্থাৎ কলা বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

অনলাইন তথ্য প্রদানকারী মাধ্যম উইকিপিডিয়ার তথ্যানুসারে, শুভেন্দু অধিকারী বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কাঁথির প্রভাত কুমার কলেজে ১৯৮০ সালে ভর্তি হন। পরবর্তীতে ২০১১ সালে তিনি রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ বিজ্ঞান (Environmental Science) বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাশ করেছেন বলে জানা যায়।