বাংলাদেশে কবিগুরুর ওপর চরম আঘাত! বিশ্বকবির প্রতিকৃতিতে কালি লেপে লাগানো হলো উসকানিমূলক পোস্টার

ওপার বাংলায় ফের আক্রান্ত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাংলাদেশে এবার কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে কালি লেপে দেওয়ার এক অত্যন্ত নিন্দনীয় ও বিতর্কিত ঘটনা ঘটল। খুলনার যশোর রোড রেলস্টেশনের দেওয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতির মুখের অংশে কালো কালি লেপে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকালে বিষয়টি স্থানীয়দের চোখে পড়ার পর থেকেই বাংলাদেশ সহ বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

বেছে বেছে শুধু রবীন্দ্রনাথের ছবিতেই হামলা!

খুলনা রেলস্টেশনের সীমানা দেওয়ালে একাধিক স্মরণীয় ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি বা দেওয়ালচিত্র আঁকা হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়াও সেখানে স্থান পেয়েছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত, কাজী নজরুল ইসলাম, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ছবি। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এবং পরিকল্পিতভাবে হামলাকারীরা কেবল রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি লেপে দিয়েছে।

ঘটনাটি আরও গুরুতর রূপ নেয় যখন দেখা যায়, কালিমালিপ্ত প্রতিকৃতির দু’পাশে দুটি উসকানিমূলক পোস্টার সেঁটে দেওয়া হয়েছে। সেখানে কবিগুরুর বিখ্যাত ‘শিবাজী উৎসব’ কবিতার তীব্র সমালোচনা করে লেখা রয়েছে— “তিতুমীরের বাংলা মুসলিম এবং পূর্ব বাংলা বিদ্বেষী রঠার ঠাই নাই/ভারত বন্দনার ঠাঁই নাই” (কবির নামের বিকৃতি ঘটিয়ে)। প্রসঙ্গত, দেওয়ালচিত্রের এই প্রকল্পটি তৎকালীন উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হয়েছিল।

পুনরায় আঁকা হচ্ছে ছবি, কড়া নজরদারি

এই জঘন্য ঘটনার পরপরই ওই স্থানে নতুন করে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। দেওয়ালচিত্রটির মূল শিল্পী রেজাউল করিম জানান, কালি লেপে দেওয়া স্থানটিতে সাদা প্লাস্টিক পেইন্টের প্রলেপ দিয়ে প্রথমে মার্কার স্কেচ করা হচ্ছে, এরপর নতুন করে রং লাগানো হবে। কাজ চলাকালীন যাতে দ্বিতীয়বার কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে, তার জন্য ঘটনাস্থলে খুলনা পুলিশ এবং বিএনপির স্থানীয় যুব সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মোতায়েন ছিলেন।

তীব্র নিন্দা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

কে বা কারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “দেওয়ালচিত্রে এভাবে কালি লেপা চরম হিংস্রতা ও সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয়। বিশ্ববরেণ্য কবিকে অহেতুক অপমান করা হয়েছে। তাঁর ছবি মুছে বা ঢেকে দিয়ে রবীন্দ্রনাথকে অস্বীকার করার কোনও সুযোগ নেই।”

উল্লেখ্য, ওপার বাংলায় রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি অবমাননার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে গত ১০ অক্টোবর ঢাকার সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা অ্যাকাডেমির সামনের দেওয়ালেও ঠিক একইভাবে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে চুনকালি লেপার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। সেই সময় বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতীকে আটক করেছিল স্থানীয় প্রশাসন। পরপর এই ধরনের ঘটনায় বিশ্বকবির অনুরাগী ও সচেতন সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।